তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দমনে সক্রিয় থাকার দাবি করলেও বাস্তবে এসব বিজ্ঞাপন থেকেই বিপুল অর্থ আয় করছে মেটা—এমন অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ ও ‘টেক জাস্টিস ল’ নামের দুই আইনি প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা এ মামলায় বলা হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে দীর্ঘদিন ধরে মুনাফা করে আসছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার—এসেছে প্রতারণামূলক বা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি অর্থ নেওয়া হলেও প্রতারণাসংক্রান্ত ব্যবহারকারীদের করা ৯৬ শতাংশ বৈধ অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছে মেটা।

টেক জাস্টিস ল’র অ্যাটর্নি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারাহ কে উইলি এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রতিষ্ঠানগত নীতির অংশ হিসেবেই মেটা ব্যবহারকারীদের ওপর চলমান ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে মুনাফা অর্জন করেছে। বাইরে থেকে তারা প্রতারণা দমনের কথা বললেও ভেতরে প্রতারকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, এটি একটি ব্যবসায়িক মডেল যা প্রতারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।”

এসব অভিযোগের জবাবে মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং প্রতিষ্ঠানটি আদালতে এ বিষয়ে লড়াই করবে। ব্যবহারকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে মেটা ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা দমনে কাজ করছে। গত বছর আমরা ১৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে দিয়েছি, যার ৯২ শতাংশ কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগেই অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।’

মামলার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম নতুন করে আইনি তদন্তের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। আদালতে মেটা কীভাবে এ অভিযোগের জবাব দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন নীতিমালার ভবিষ্যৎ।

মন্তব্য করুন