রোববার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১০ ১৪৩২   ০৫ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক অবৈধ ঘোষণা, ট্রাম্প ১৯৭৪ আইনের ধারা দিয়ে ১৫%

আল–জাজিরা ও রয়টার্স

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক আদালতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি পুরোনো একটি আইনের একটি ধারাকে প্রথমবারের মতো সক্রিয় করে আবার শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই পদক্ষেপে বিশ্ববাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে অন্যান্য দেশকে তাঁর নীতিতে সমর্থন দিতে শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিশ্বের ১৫৭টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ওই শুল্ক আরোপের পর অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানা ধরনের বাণিজ্য সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক নিজেদের মতো করে ঠিকঠাক করেছে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সেই ক্ষমতা প্রয়োগকেই অবৈধ ঘোষণা করলেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারকদের ৬–৩ ভোটে এই সিদ্ধান্ত আসে। রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, “আজ আমাদের কাজ শুধু এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যে আইইইপিএতে প্রেসিডেন্টকে দেওয়া আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতায় শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত আছে কি না। না, এটা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে নয়, কংগ্রেসকে প্রদান করেছে।”

তাই আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক নির্ধারণ ও পরিবর্তন করাকে সংবিধানবহির্ভূত ঘোষণা করে তা আটকে দেন।

তবে নাছোড়বান্দা ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতা বলে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা সক্রিয় করে সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।

অতীতে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধারা প্রয়োগ করেননি। ‘বৃহৎ ও গুরুতর’ বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি মেটাতে আইনের এই ধারা ব্যবহার করার কথা বলা আছে।

গতকাল শনিবার শুল্কহার আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আর ১২২ ধারা অনুযায়ী, এটিই এ আইনের সর্বোচ্চ হার। দেশের বাণিজ্যে ঘাটতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক কার্যকর হবে। কেবল কংগ্রেস শুল্কের মেয়াদ বাড়াতে পারবে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১২২ ধারা অনুযায়ী আরোপিত শুল্কের মধ্যে কিছু পণ্যের জন্য ছাড় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, ধাতু ও জ্বালানি পণ্য।

ট্রাম্পের এক হারে এই নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব একেক দেশের ওপর একেক রকম হবে। বিভিন্ন দেশ এখন এর আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কীভাবে কী করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। কারণ, অনেক দেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি রয়েছে। সেগুলো মানার বাধ্যবাধকতা কতটা, সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক আরোপের পর অনেক দেশ চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক কমিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও অনেক চুক্তি বহাল থাকছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে কিছু দেশ নতুন দর–কষাকষি করবে, আবার কেউ কেউ বিদ্যমান চুক্তি ধরে রাখতে চাইবে।

আগামী মঙ্গলবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এই বিভাগের আরো খবর