রোববার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১০ ১৪৩২   ০৫ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ, ছাত্রদল নেত্রীরা এগিয়ে

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দলের ভেতর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। মহিলা দলের নেত্রীদের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরা এ ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছেন।

 

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে প্রোফাইল (বৃত্তান্ত) তৈরি করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠানো শুরু করেছেন। আবার অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

 

যদিও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নারী আসনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। আসন বণ্টন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে।

 

অন্য ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। দলগুলো হলো—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস।

 

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। কোনো কারণে বণ্টন করা আসনসংখ্যা মোট আসনের চেয়ে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

 

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়নের বিষয়টি ঈদের আগে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনগুলো হবে নবীন-প্রবীণের মিশ্রণে। তবে অপেক্ষাকৃত তরুণদের বড় একটা অংশকে দেখা যেতে পারে।

 

পুরোনোদের মধ্যে আলোচনায় আছেন—

  • জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস
  • সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ
  • বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিরিন সুলতানা
  • রেহানা আক্তার (রানু)
  • ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী
  • সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন
  • নিলুফার চৌধুরী (মনি)
  • বিলকিস ইসলাম
  • শাম্মী আখতার
  • সৈয়দা আসিফা আশরাফী (পাপিয়া)
  • রাশেদা বেগম (হীরা)
  • রোখসানা খানম
  • আয়েশা সিদ্দিকা
  • নেওয়াজ হালিমা
  • ফরিদা ইয়াসমীন
  • হেলেন জেরিন
  • আইনজীবী শাকিলা ফারজানা
  • স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন
  • চট্টগ্রাম মহিলা দলের মনোয়ারা বেগম (মনি)
  • মহিলা দলের দক্ষিণের আহ্বায়ক রুমা আক্তার

 

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরা এবার ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁদের মধ্যে—

  • মহিলা দলের সহ–স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক আসমা আজিজ
  • সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন (জুঁই)
  • মহিলা দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব নাসিমা আক্তার (কেয়া)
  • খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী
  • ঢাকার কোতোয়ালি থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর সুরাইয়া বেগম

 

সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা সুলতানা জেসমিন প্রথম আলোকে বলেন, “আমার মনে হয়, রাজনীতিতে শ্রম ও ঘামের সঙ্গে একাডেমিক কম্বিনেশন, অর্থাৎ পড়াশোনা ও যোগ্যতারও সংমিশ্রণ দরকার।”

 

এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে পাঠাতে পারবে। এই পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)। জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঠিক করছে। এ জন্য মহিলা বিভাগ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

 

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে—

  • জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা
  • আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি আইনজীবী সাবিকুন্নাহার
  • সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম
  • মহিলা বিভাগের সদস্য ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ

এ ছাড়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বী থেকেও একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

 

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা মনোনয়ন ঠিক করছি। সংসদে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন উপযুক্ত নারীদের মনোনয়ন দেব।”

 

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। তাঁদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ৬ জন বিএনপির, ১ জন স্বতন্ত্র। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য হবেন ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।

 

নিপুণ রায় চৌধুরী মনে করেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী নেতা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বিগত সময়ে মাঠের ভূমিকা—সবকিছু বিবেচনা করেই সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন।”

 

নতুন জাতীয় সংসদের অধিবেশন এখনো ডাকা হয়নি। গেজেটের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর