বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৮ ১৪৩২   ২৩ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭৯

শুকিয়ে গেছে ফেলানীর মা-বাবার চোখের জল

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২১  

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ১৪ বছরের কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। গুলিতে নিহত হওয়ার পরও প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ফেলানীর নিথর দেহ। এর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর (৮ জানুয়ারি) শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। ফেলানী হত্যার ১০ বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ায় হতাশ ফেলানীর পরিবার।

ঘটনার দুই বছর পর মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অব্যাহত চাপের মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করে ভারত সরকার। ওই আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। তবে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামি অমিয় ঘোষকে খালাস দেন বিএসএফের বিশেষ আদালত।

এরপর রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় বিচারের দাবি জানান ফেলানীর বাবা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আবারও বিচারকাজ শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। কিন্তু ২০১৫ সালের ২ জুলাই আসামি অমিয় ঘোষকে পুনরায় খালাস দেন আদালত।

এই রায়ের পর একই বছরের ১৪ জুলাই ভারতের ‘মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ-মাসুম’ ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কয়েক দফায় পিছিয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য হলেও তা আজ পর্যন্ত হয়নি। এরপর ২০১৯ ও ২০২০ সালে কয়েকবার শুনানির তারিখ ধার্য হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে থমকে গেছে ফেলানী খাতুন হত্যার বিচার প্রক্রিয়া। কিশোরী ফেলানী হত্যার ১০ বছরেও বিচার পায়নি তার পরিবার।

এদিকে মেয়ে হত্যার বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা ও মা। ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, ফেলানী হত্যার এত বছর হয়ে গেছে আজও বিচার পেলাম না। আমি দুই দেশের সরকারের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের দিল্লিতে। মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে ফুলবাড়ী অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের ওপর মই বেয়ে আসার সময় বিএসএফ এর গুলিতে মৃত্যু হয় ফেলানীর।

এই বিভাগের আরো খবর