সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৮ ১৪৩২   ২৩ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩৬৩

পারিবারিক কলহের জেরে ঘরে আগুন দিলেন শ্বশুর, শিশু দগ্ধ

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পূর্ব হাজরাপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মিম আক্তার নামে (৬) এক শিশুর শরীরের পিঠের পুরো অংশ পুড়ে যায়। প্রথমে শিশুটিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সোমবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু মিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পূর্ব হাজরাপুর গ্রামে রাজ্জাক শেখের ছেলে আসলাম শেখ গত ৬ বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যায়। এরপর থেকে রাজ্জাক শেখের সঙ্গে স্ত্রী সম্পা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিরোধ চলছিল। সম্পার শ্বশুর তাকে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য অনেকবার বলে। সম্পা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে কোথাও চলে যাবে না বলে জানায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার বিকেলে রাজ্জাক শেখের মেয়ে রুনা আক্তার বাড়িতে মিস্ত্রী নিয়ে আসে ভাইয়ের স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের ঘর তুলে দেওয়ার জন্য। এ সময় রাজ্জাক শেখ পুনরায় তার মেয়ে ও পুত্র বধুকে বাড়িতে ঘর তুলতে বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে বিকেল থেকে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। রাত তিনটার দিকে হঠাৎ করে সম্পা ঘরে আগুন দেখে চিকিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে।

এ সময় ঘরের মালামালের সঙ্গে শিশু মিম আক্তার আগুনে পুড়ে যায়। সকালে শিশুকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু মিমের আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে স্থানীয়ভাবে শালিস বসে। সালিসে স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সালিসে সিদ্ধান্ত হয় এখন কোনো মামলা করা হবে না এবং শিশুর চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন (টাকাসহ) সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে অভিযুক্ত শিশুর দাদা রাজ্জাজ শেখ। আজ সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু মিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।


 
পুত্রবধূ সম্পা আক্তার বলেন, ‘অনেকদিন ধরে আমার শ্বশুর আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। বাড়ি থেকে না গেলে আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। শনিবার বিকেলে আমার ননদ রুনা মিস্ত্রি নিয়ে আসে বাড়িতে ঘর তোলার জন্য। এ নিয়ে শ্বশুর আমাকে ও ননদকে গালিগালাজ করে। রাত ৩টার দিকে আমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার চিৎকারে আশপাশের মানুষ এসে আমাদের ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করে। আমার মেয়েটার পিঠ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আমি এ ঘটনার কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।’

আগুনে পুড়ে যাওয়া শিশু মিম আক্তার বলে, ‘আমি ঘুমিয়েছিলাম। ঘরে আগুন লাগায় আমার শরীর অনেক পুড়ে গেছে। আমার দাদা আগুন দিয়েছে।’

রাস্তা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মাওলা বলেন, ‘পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল শ্বশুর ও পুত্রবধূর মধ্যে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে নিয়ে আমরা শতাধিকবার বসে সালিস করেছি। শ্বশুরকে বহুবার বলেছি। এক পর্যায়ে আমি এসে ঘর তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। তবে ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি খুব দুঃখজনক।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আগুনের ঘটনা শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যার ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে সেই লোক বিদেশে থাকে। বিদেশ থেকে ফোনে আমাদের জানিয়েছে এটা পারিবারিক বিষয়। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ নাই।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘যে শিশুটি আগুনে পুড়ে গেছে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু মিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’

এই বিভাগের আরো খবর