বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৯

জামায়াত আমির: জনগণের সরকার কায়েম হবে, দল-ব্যক্তি-পরিবারের নয়

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই, সরকারটা হোক জনগণের, কোনো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, পরিবারের নয়। দল, ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি অতিক্রম করে ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হবে আগামীকাল থেকে—সেটাই আমরা আশা করি।’ আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় ঢাকা-১৫ আসনে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভালো নির্বাচন হলেই একটা ভালো সরকার তৈরি হবে। যে সরকার এ দেশের মানুষকে নিয়ে ভাববে। যে সরকার হবে জনগণের সরকার। আর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয়, তাহলে ওই সরকার জনগণের দুঃখ-দরদ বুঝবে না এবং জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সেতুবন্ধন থাকবে না।’

 

আজ সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতের আমির। ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান দেখেছি এবং ভোটার উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়। এরপরে আমি ক্রমান্বয়ে অনেকগুলো সেন্টার দেখার চেষ্টা করেছি। আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি (তার মধ্যে) দুই-একটা সেন্টার ছাড়া বাকি সেন্টারগুলোর টার্নআউট ছিল খুবই সন্তোষজনক।’

 

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা জোর করে ঢুকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এই আসনের (ঢাকা-১৫) সর্বাধিকসংখ্যক ২৬ হাজার ভোট রয়েছে ওই কেন্দ্রে। সেই জায়গায় হঠাৎ করে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়েন। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং অহেতুক হস্তেক্ষেপ করেন। এমনকি আমাদের যারা ভোটার এবং সমর্থক, তাদেরকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেন।’

 

খবর পেয়ে জামায়াত আমির ওই কেন্দ্রে যান বলে জানান। বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম যে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টা হ্যান্ডেল করছেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বললেন যে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

 

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমি তখন তাঁকে (সেনা কর্মকর্তা) বলেছি যে ভোট আওয়ার শেষ হওয়ার পরে শুধু ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন আর যারা বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট আছেন, তার বাইরে যেন কেউ ঢুকতে না পারে। ভেতরের পরিবেশটা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরের কেউ যেন অহেতুক জটলা এবং টেনশন সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন।’

 

ভোট শান্তিপূর্ণ হোক সেটাই প্রত্যাশা করেন বলে জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি মানুষ পছন্দমতো ভোট দেবেন। ভয়ের সংস্কৃতি যেন তৈরি না হয়।’ জামায়াতের আমির আরও অভিযোগ করেন, ‘এ পর্যন্ত সারা দেশের যে খবর আমরা পেয়েছি, বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি–দলীয় যারা প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থকরা বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি করেছে।’ ভোট শেষ হওয়ার পর গণনার সময় কোনো বিশৃঙ্খলা যদি তৈরি হয়, তাহলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

এই বিভাগের আরো খবর