বৃহস্পতিবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২   ০২ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২

এআই স্বাস্থ্য তথ্যে ভুল, বিভ্রান্তির ঝুঁকি বাড়ছে

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

দিন দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্বাস্থ্য তথ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে গলা ব্যথা—সব প্রশ্নের উত্তরই এখন অনেকে খুঁজছেন এআইয়ের কাছে। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিনে দেওয়া এআই-ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সারাংশের ওপর ভরসা করছেন ব্যবহারকারীরা। আলাদা ওয়েবসাইটে না গিয়ে সরাসরি এআইয়ের দেওয়া উত্তরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। তবে এই প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—কিছু ক্ষেত্রে এআই ভুল বা বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য তথ্য দিচ্ছে। গার্ডিয়ানের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের এআই ওভারভিউতে লিভার ফাংশন টেস্ট সংক্রান্ত অনুসন্ধানে গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ফলাফলকে ‘স্বাভাবিক সীমার মধ্যে’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে রোগী ভুলভাবে নিজেকে সুস্থ মনে করতে পারেন। পরে ওই তথ্যে ‘স্বাভাবিক পরিসর’ সম্পর্কিত অংশ নীরবে সরিয়ে ফেলা হয়।

 

আরেক ঘটনায় দেখা গেছে—স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সাইটের বদলে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট থেকে তথ্য নিয়ে সারাংশ তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ সার্চ ব্যবহার করেন। ফলে এমন ভুল তথ্য সহজেই বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে ৫০ হাজার সার্চ বিশ্লেষণে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের তথ্য থেকে সারাংশ তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটির অন্যতম বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘নেটডক্টর.ডি’-এর তথ্য ব্যবহার হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে মাত্র ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এআই ওভারভিউ নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসূত্রের সঙ্গে মিলেছে। পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে—উদ্বেগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়।

 

ল্যানসেট ডিজিটাল হেলথ-এর একটি স্টাডিতে দেখা গেছে—লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) মেডিকেল মিসইনফরমেশনে সংবেদনশীল। ১৫৮ হাজার প্রম্পটে ৩১.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল তথ্য প্রদান করে। বিশেষ করে ডক্টরস নোটে ভুল তথ্য থাকলে এআই আরও বেশি প্রভাবিত হয়।

 

সায়েন্স নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এআই চ্যাটবট রিয়েল-ওয়ার্ল্ড মেডিকেল প্রশ্নে ভুল করে। ল্যাবে অ্যাকুরেসি ৯৫ শতাংশ থাকলেও রিয়েল কনভার্সেশনে ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।

 

চিকিৎসকেরা বরাবরই অসুস্থতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনলাইন সার্চের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। উপসর্গ লিখে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এখন সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে, কারণ অনেক ব্যবহারকারী বিস্তারিত ফলাফল না পড়ে সরাসরি এআইয়ের সারাংশ দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে—স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, তবে চিকিৎসার বিকল্প নয়। গুগলের মতো কোম্পানি ভুল সারাংশ সরিয়ে ফেললেও সার্চের সামান্য পরিবর্তনে ভুল তথ্য ফিরে আসতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

 

এই সমস্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সংস্থা যেমন ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন এআই সারাংশে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এআই স্বাস্থ্য তথ্যে স্বচ্ছতা ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা দরকার।

এই বিভাগের আরো খবর