সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৮ ১৪৩২   ২৩ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, বিপর্যস্ত চিকিৎসাসেবা

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬  

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভিড় এত বেশি যে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।

 

বিবিসির সাথে কথা বলা দেশটির তিন হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, সংঘর্ষে আহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। তেহরানের এক হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, ‘অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে গুলি লেগেছে।’ আরেক হাসপাতালের কর্মীরা জানান, শরীরে গুলি এবং রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে বহু মানুষকে তারা চিকিৎসা দিয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সহিংস বিক্ষোভ দমনকে সামরিক কায়দায় মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরান এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র সহিংস রূপ দিয়েছে।

ইরানের অভিযোগের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ''ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়ত অন্য কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।''

 

২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এবারের আন্দোলনকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

 

দুই সপ্তাহ আগে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। ধীরে ধীরে বিক্ষোভটি সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস রূপ নেয়।

 

ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর হামলায় ইতিমধ্যে কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, অনেকেই আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আটক হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন।

 

বিবিসি পারসিয়ান জানিয়েছে, রাশত্ শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের মরদেহ আনা হয়। হাসপাতালের মর্গে এত মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় অনেক লাশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর