রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৬ ১৪৩২   ২০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩০

ইরানকে নতুন ৫ কঠিন শর্ত দিলেন ট্রাম্প

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চাপের মধ্যেই ইরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করাতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্প ইরানের কাছে পাঁচটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত পেশ করেছেন।

 

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। শর্তগুলো হলো—

 

  •  সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলা
  •  ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া
  •  ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া
  • মিসাইল উৎপাদন কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া
  • সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে যেসব সশস্ত্র মিত্র বাহিনী (প্রক্সি গ্রুপ) রয়েছে তাদের সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্সের মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে কঠিন ও ইন্টারেস্টিং দাবি হলো ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা। তিনি বলেন, “এসব মিসাইল ইরানের সরকারের জন্য একমাত্র রক্ষাকবচ। এগুলো ছাড়া ইরান খালি হয়ে যাবে এবং ইসরাইলের আকাশ শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়বে। ইরানের কোনো সরকারই এই দাবি মানতে পারবে না।”

 

প্রত্যাখ্যান হলেই হামলা ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই শর্তগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন ইরান সহজেই প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়। আর প্রত্যাখ্যানের অর্থই হবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় হামলা। ট্রাম্পের পাঠানো বিশাল নৌবহর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছেন তিনি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পাঁচ শর্ত পূরণ হলে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যদিকে শর্ত প্রত্যাখ্যান করলে সামরিক হামলার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর