শনিবার   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ২ ১৪৩২   ২৬ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২১

অন্যায়-বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করব না: তারেক রহমান

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড আমরা বরদাশত করব না। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই থাকুক—কোনো অজুহাতে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না।” শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এই বিজয়কে ‘গণতন্ত্রকামী জনগণের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যই আমাদের প্রধান শক্তি। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে।”

 

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।” আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইন সমান এবং এর প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে, তা যেন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

 

নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে বিজয় মিছিল না করার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপশক্তি যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য আমি বিজয় মিছিল করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করছি। যে কোনো মূল্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।”

 

বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে তারেক রহমান বলেন, “এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করেছে। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে আপসহীন লড়াই করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

 

বিজয়-পরবর্তী এই সময়ে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। এই সংবাদ সম্মেলন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বশীলতার বার্তা হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর