তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না’: রাষ্ট্রপতি

গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে।’’

রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দুঃসহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। এখন প্রতিশোধের বদলে কঠোর আইনানুগ প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এ দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধের বার্তা দেন তিনি।

গুম হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের স্বজনদের স্মরণে আবেগঘন কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি বলেন, "রাষ্ট্রের আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব হলো গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।" তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং গুমবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা সানজিদা ইসলাম তুলিসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করেন, সরকার গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। একটি ভীতিহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারসম্পন্ন কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আলোচনা সভায় গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাঁদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা ও স্বজনদের নিখোঁজ হওয়ার চিত্র তুলে ধরে ন্যায়বিচারের আকুল দাবি জানান।

মন্তব্য করুন