তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:২৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে কৌশল চূড়ান্তে সচিব কমিটির বৈঠক, জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, ঘোষণার পর থেকেই বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার ছাড়াও শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি ও বিধি সংশোধনসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এই সুবিধা পৃথকভাবে বহাল থাকবে না; বরং তা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও কার্যকর বেতন বৃদ্ধি তুলনামূলক কম হবে। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত এই অর্থের একটি বড় অংশ নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

মন্তব্য করুন