প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৬:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে তা জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে—কোনো বাহ্যিক চাপ বা প্রত্যাশার কারণে নয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সেখানে যাওয়া প্রয়োজন—দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।”
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় শক্তির দেশগুলোতে সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সেই দেশগুলোতে যাবে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলেও সময় ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সফর নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশ বা বাইরের বয়ানের দ্বারা প্রভাবিত নয় এবং দেশটি এখন স্বাধীন বৈশ্বিক অবস্থান থেকে কাজ করছে। তার ভাষায়, “কেউই আমাদের বলে দেবে না কখন বা কোথায় আমাদের যেতে হবে।”
উপদেষ্টা জানান, সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা সফল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া সফরে ২৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং চীন সফরে ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদেশ সফরের ব্যয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব সফরই প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয় এবং এগুলো মূল্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত, অপচয়মূলক নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে চলমান বৈঠকগুলো নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ এবং এগুলোকে বিশেষ কোনো কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শ্রমবাজার ও আসিয়ান সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি চীনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে তিনি জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা (অ্যাসেট রিকভারি) সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার, যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন