সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩   মাঘ ১৬ ১৪২৯   ০৮ রজব ১৪৪৪

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৬

প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো ফুলঝাড়ু বিক্রি করে চলছে অনেক পরিবার

 বিপ্লব তালুকদার

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

খাগড়াছড়িতে ফুলঝাড়ুর চাহিদা বাড়ছে দিনদিন। কারণ অন্যান্য ঝাড়ুর চেয়ে এটি সহজে ব্যবহার করা যায়। দেখতে সুন্দর, টিকে বেশিদিন ও দামে কম পাহাড়ের এ ফুলঝাড়ু বিক্রি করে চলে সহস্রাধিক পরিবার।

খাগড়াছড়ি বিবিন্ন জায়গাতে আছে বিশাল খোলা মাঠ। সেখানেই স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন পাহাড়ি পল্লী থেকে সংগ্রহ করা ফুলঝাড়ু সারিবদ্ধভাবে শুকানো হচ্ছে। শুকানো শেষেই এসব ফুলঝাড়ু পাইকারের হাত ধরে যাবে দেশের সমতলের বিভিন্ন জেলায়।
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির রামগড়, দীঘিনালা ও গুইমারাসহ বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে ফুলঝাড়ুর আড়ৎ। স্থানীয় বাজার কিংবা পাহাড় থেকে ফুলঝাড়ু সংগ্রহকারীদের থেকে নগদে ক্রয় করে শুকানো হচ্ছে খোলা মাঠে।

 খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদের  পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরা পাহাড়ে ঘুরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এ থেকেই চলে তাদের সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয়। এদের মতোই পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেকেরই আয়ের অন্যতম উৎস ফুলঝাড়ু।
 সময়ের ব্যবধানে পাহাড়ের ফুলঝাড়ুতে সমৃদ্ধ হচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি। এক হাত দুই হাত করে পাহাড়ের ফুলঝাড়ু রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশের বড় বড় শহর গুলোতে । সমতলের জেলাগুলোতে পাহাড়ের ফুলঝাড়ুর কদরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়িতে আসা পাইকাররা। তবে তাদের মতে পাশের দেশ ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে ফুলঝাড়ু আসার কারণে পাহাড়ের ফুলঝাড়ুর কদর কমেছে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের বেশিরভাগ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল হলেও জুমচাষের ফসল ঘরে তোলার পর পৌষ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ঝাড়ুফুল বিক্রি করেই তাদের জীবিকা চলে।
ফুলঝাড়ু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে পাহাড়ের হাজারো বাসিন্দা জড়িত  ফুলঝাড়ু পাহাড়ের মানুষের বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। অনেকেই গভীর জঙ্গল থেকে ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। আবার অনেক আড়তদার বা পাইকার তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা ফুলঝাড়ু কিনেন।
৮-১০টি ফুলে একটি আঁটি। আর এমন একটি আঁটি বাজারে বিক্রি হয় ১৫-২০ টাকায়। এভাবেই ১০০ আঁটি ফুলঝাড়ু বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। সপ্তাহে ১০০ আঁটি ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করতে পারে অনেকেই এমনটাই জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি দীঘিনালার সাত মাইল এলাকার স্থানীরা।
অনেকেই এক মৌসুমে পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা ফুলঝাড়ু বিক্রি করে আয় করে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। অনেকের মতে পুঁজি দিয়ে কৃষি কাজের চেয়ে বিনা পুঁজিতে বছরে চার মাস ফুলঝাড়ু সংগ্রহে অধিকতর লাভজনক।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি, দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও পাশের জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও সাজেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করা হয়। ফুলঝাড়ু কেনার পর খোলা মাঠে শুকানো হয়। প্রায় ১৫ দিন শুকানোর পর এসব ফুলঝাড়ু সমতলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় বলেও জানান এক ব্যবসায়ী।

এই বিভাগের আরো খবর