বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৯ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬৬৪

শাল্লায় অপ্রয়োজনীয় ৩০ সেতু; কোটি কোটি টাকার অপচয়

শাল্লা প্রতিনিধি-

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২০  

সুনামগঞ্জের শাল্লার প্রত্যন্ত জনপদে ৩০টির মতো অপ্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ করে সরকারের প্রায় ৯কোটি টাকা জলে ফেলা হয়েছে। এগুলোর কোনটিরই অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই বছরের পর বছর ধরে। বেশির ভাগ সেতু তৈরির পরই অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হয়নি। কোন কোনটির নীচ দিয়ে বা পাশ দিয়ে ডুবন্ত সড়ক তৈরী হয়েছে। যা বর্ষায় এই সেতুগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। ট্রলার বা নৌকা সেতুর উপর দিয়ে উঠলে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনেরা বললে, কার স্বার্থে সরকারের বিপূল পরিমান টাকার অপচয় করা হয়েছে, তদন্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

শাল্লা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কর্তৃক গত প্রায় ১০ বছরে ৩০ টির মতো গ্রামীণ যোগাযোগ সেতু নির্মাণ হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সেতুগুলোর মধ্যে উপজেলার সুখলাইন গ্রামের পাশের ২টি, গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ১টি, আনন্দপুরে ১টি, হবিবপুরে ২টির মধ্যে ১টি, আগুয়াই নোয়াহাটির ১টি, শাসখাই ১টি, মামুদনগর ১টি, ইসাকপুর ১টি, কাদিরপুরের সামনে ১টি, মার্কুলির খালে ১টি, গ্রাম শাল্লায় ১টি এবং রূপসা গ্রামে ১টি সেতু তৈরি হবার পর থেকে অ্যাপ্রোচ বিহীন রয়েছে। অথচ ওইসব সেতু তৈরি করতে প্রত্যেকটিতে ৩০ থেকে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

উপজেলার মনুয়া গ্রামের আনিসুল হক চৌধুরী মুন বললেন, ‘উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের পাশে একটি ছোট কালভার্ট হলেই হতো। কিন্তু করা হয়েছে সেতু। এই সেতু ৫ বছর হয় কোন কাজে আসছে না। উল্টো বর্ষা কালে নৌকা চলাচলে বিপদ হচ্ছে। শাল্লা গ্রামের পশ্চিম দিকে করা সেতুর পাশ দিয়ে ডুবন্ত সড়ক হয়েছে। এই সেতু এখন অকারণে দাঁড়িয়ে আছে। রূপসা গ্রামের পাশের আরেকটি সেতু মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। নেই কোনো অ্যাপ্রোচ। ২ বছর আগে উপজেলা সদরের পাশে সুখলাইন গ্রামে ২টি নির্মাণ সেতু করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকেই সরকারের মাল যে গঙ্গাতে ঢালা হয়েছে, তা সবার নজরে পড়ে।’

শাল্লা উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক পিসি দাস পীযুষ বলেন,‘এক শ্রেণির টাউট ঠিকাদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা/কর্মচারীর যোগসাজসে সরকারের এই টাকার অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারীরা মনে করে শাল্লা একটি প্রত্যন্ত এলাকা যা খুশি তা করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে যাবে না।’

শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কেন এই সেতুগুলো করা হয়েছে, তা কেউ জানে না। অনেক স্থানে ২লাখ টাকা খরচ করলে মাটির সড়ক করা যায়। করা হয়েছে ৩৩ লাখ টাকার সেতু। পানি নিস্কাশনের জন্য সেতু করা হয়ে থাকে। কিন্তু এমনও সেতু আছে, ওই পথ দিয়ে পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনই নেই। বর্ষায় এগুলো মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  ট্রলার বা নৌকা তাতে লেগে ফেটে যায় বা ডুবে যায়। এসব সেতু না করে এই টাকা দিয়ে হাওর থেকে ধান ঘরে আনার সড়ক করলে মানুষের কিছুটা উপকারে আসতো। সরকারী এই টাকার অপচয় কেন হয়েছে, কারা করেছে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

শাল্লা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরকার মোঃ ফজলুল করিম বলেন, ৩০টির মতো সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই, এটা সত্য। বর্ষায় এগুলো বিপদ হয়ে দাঁড়ায় এটাও সত্য। তবে এগুলো মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য করা হয়েছিল। শাল্লার সিংহভাগ এলাকা বছরের বেশিরভাগ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। যখন সেতু করা হয়েছিল, তখন হয়তোবা সড়ক ছিল। পানির তীব্রতায় বা ঢেউয়ে সড়ক হয়তো ভেঙ্গে গেছে। এখন দাঁড়িয়ে আছে কেবল সেতু। আমরা দেখেছি গত ১০ বছরে ১৬ থেকে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়া ৩০টি সেতুর কোনটিতে একেবারেই অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই। কোনটিতে অ্যাপ্রোচ থাকলেও চলার উপযোগী নেই। সেতুগুলোর ২ পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক করার জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে এই কাজ হবে। বরাদ্দ আসলেই কাজ শুরু করবো আমরা। 

এই বিভাগের আরো খবর