প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:২৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছেন সমুদ্রে অবস্থানরত হাজারো নাবিক। ট্যাংকার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারট্যাংকোর তথ্যমতে, বর্তমানে ১০৫টির বেশি তেলের ট্যাংকারে প্রায় দুই হাজার ৪০০ ক্রু আটকা পড়ে আছেন। একদিকে তীব্র খাদ্য সংকট, অন্যদিকে মাথার ওপর যুদ্ধের দামামা—সব মিলিয়ে এক নারকীয় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থানরত এক নাবিক আক্ষেপ করে বলেছেন, "আমরা আটকা পড়েছি, যেন কারাগারে আছি, আমরা শুধু বাড়ি ফিরতে চাই, যা এ মুহূর্তে সম্ভব নয়।"
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টারট্যাংকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স জানান, দীর্ঘ সময় উপকূলে আটকে থাকায় নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে।
বিপন্ন এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে এক নাবিক এবিসি নিউজকে বলেন, "যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেছে, আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো অনিশ্চয়তা। আমরা জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারব কিনা তা জানি না। কারণ এখানে কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।"
ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "সরু ও ঘেরা এই জলপথ ক্রুদের মধ্যে ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ড্রোন, মানববিহীন যান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ভয় রয়েছে। আমাদের মাথার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে। যে কোনো সময় আছড়ে পড়তে পারে। আমি নিজের চোখে জাহাজে আঘাত করতে দেখেছি।"
আতঙ্ক এতটাই ছড়িয়েছে যে, দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্য এক নাবিক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, "তিনি নোটিশ দিয়ে দিয়েছেন এবং এই প্রণালি দিয়ে যাত্রা করতে রাজি নন।"
ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে নাবিকদের কাছ থেকে ১৯০০টি সহায়তার আবেদন পেয়েছে, যার বড় অংশই ছিল জীবন বাঁচিয়ে দেশে ফেরার আকুতি। যদিও তারা এখন পর্যন্ত ৪৫০ জনকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে।
সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ও জলপথ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনকে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, "হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী ধাপের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।" এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন