প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:০৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে পারমাণবিক শক্তির অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাল বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং। এর মাধ্যমে দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে।
গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি ব্যবহারের লাইসেন্স পাওয়ার পর আজ শুরু হচ্ছে মূল অপারেশন। এই অনন্য অর্জনের সাক্ষী হতে ঢাকা ও রূপপুর সফরে আসছেন রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই ঐতিহাসিক ক্ষণে উপস্থিত থাকবেন।
প্রকল্পের কারিগরি সক্ষমতা সম্পর্কে জানা গেছে, বাংলাদেশের ৫৯ জন বিশেষজ্ঞ এই কেন্দ্র পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর সম্বলিত প্রথম ইউনিটটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
পুরো প্রক্রিয়া ও উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, "প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে ৪৫ দিন সময় লাগবে।" তার দেওয়া তথ্যমতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে তিনটি ধাপে:
আগস্টের শুরুর দিকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় (১,২০০ মেগাওয়াট) উৎপাদনে যাবে।
দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের চাহিদার ১০ শতাংশ মেটাবে।
রাশিয়ার ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই মেগা প্রকল্প এখন স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন