স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাফুফে উইংয়ে আদম পাচারের ছায়া: তৌহিদুলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ফুটবল অঙ্গন এবার কাঁপছে এক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের নির্বাহী তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফুটবল দলের আড়ালে অস্ট্রেলিয়ায় আদম পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বাফুফের অভ্যন্তরে জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সাথে অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে আহসানুর রহমান রবিন ও তাসনুভা তাবাসসুম মহিমা চৌধুরীর সমন্বয়ে দুই সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফেডারেশন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি এএফসি এশিয়ান কাপের জন্য নারী ফুটবল দলের অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে এই পাচারের ছক আঁকা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, তৌহিদুল ইসলাম তাঁর সহযোগী হুমায়ুন কবির ও আরাফাত হোসেনকে নিয়ে মতিঝিলের কমলাপুর বাজার রোডের ‘সাগুফতা ডি লরেন্স’ ভবনে একটি গোপন কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন। সেখানে ম্যানপাওয়ার ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষকে ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে ভুয়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেওয়া হতো।

এই প্রতারণার শিকার হওয়া মো. সাজেদুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, চারজনের ভিসার জন্য তিনি মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তাঁর দাবি, ‘টাকা চাইতে গেলে আমাকে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়, পরে তারা গা ঢাকা দেয়।’

অন্যদিকে, এই বিশাল অর্থ কেলেঙ্কারি ও পাচারের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম। নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর কাছে কোনো অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নেই এবং পুরো বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তবে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও চারটি পাসপোর্ট তাঁর কাছে থাকার এবং পরে সেগুলো ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই ঘটনায় রীতিমতো বিব্রত। ফেডারেশনের ভাবমূর্তি রক্ষায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে এমন নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ফুটবলারদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্তের গভীরে গেলে এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো মহলের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসতে পারে।

মন্তব্য করুন