প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে কোনো গাছ না কেটে কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে দেওয়া এ নির্দেশনার ফলে প্রায় তিন হাজার গাছ রক্ষা পেয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এখন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপকে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২১ এপ্রিল সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী রবিউল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব সরেজমিনে মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতীতের নানা উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কেটে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বর্তমান উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটতে হতে পারে—এমন তথ্য পেয়েই প্রধানমন্ত্রী সড়কমন্ত্রীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন এবং একটি গাছও না কেটে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এর পর থেকে কোনো গাছ না কেটেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে।
এ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, “শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব করতে সড়কের দুই পাশে নতুন সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষরোপণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রকল্পের নির্মাণকাজ মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তদারকিতে চলছে। এর আওতায় রাস্তা প্রশস্তকরণ, রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুরো প্রকল্প ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতের অবকাঠামো নির্মাণেও এমন পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি পথ দেখাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
মন্তব্য করুন