আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:২১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে চতুর্থবার বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার আরও একটি প্রচেষ্টা মার্কিন সিনেটে ব্যর্থ হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হলো। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ৫২টি এবং পক্ষে ৪৭টি ভোট পড়ে।

প্রস্তাবটি পাস হলে ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা আইনত অসম্ভব হয়ে পড়ত। ভোটাভুটিতে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি আটকে যায়। তবে ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত বিরতিতে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করতে থাকবেন। ভার্জিনিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বিবিসিকে বলেন, “ভোটটি সফল না হলেও এর মাধ্যমে জনগণের কাছে স্পষ্ট হবে যে, এই যুদ্ধের দায়ভার আসলে কার কাঁধে।”

বেশিরভাগ রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাউলি জানান, প্রশাসন বর্তমানে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’-এর শর্ত অনুযায়ী কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন—যদি প্রশাসন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে আনার প্রমাণ দিতে না পারে বা কংগ্রেসের অনুমোদন না নেয়, তবে তিনি পরবর্তী প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিতে পারেন।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানের ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয় অথবা ৩০ দিনের সময় বাড়ানোর অনুমতি নিতে হয়। এপ্রিলের শেষে ইরানে মার্কিন অভিযানের বয়স ৬০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওই সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন না পেলে ট্রাম্পকে আইনত সেনা প্রত্যাহার শুরু করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহটি মার্কিন প্রশাসন ও কংগ্রেসের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, অন্যদিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে আইনি বাধ্যবাধকতা তাঁকে চাপে ফেলছে। এখন দেখার বিষয়, ২২ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটন কী ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

মন্তব্য করুন