প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও নজরদারির কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সেখানে ‘পুলিশের’ ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করে, তবে তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। বর্তমানে এই প্রণালি এবং ইরানের বিভিন্ন বন্দরগুলোতে কড়া নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য এই জলপথে ইরানের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব খর্ব করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসিন রেজাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে বলেন:
“ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পুলিশ হতে চান। এটা কি আপনার কাজ? এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি সামরিক বাহিনীর কাজ?”
তিনি অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, অবরোধ কার্যকর করতে নজরদারি চালানো মার্কিন জাহাজগুলো ইরানের “প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই” ধ্বংস হতে পারে।
মোহসিন রেজাই ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইরানের বিশেষ বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ অবসর কাটিয়ে গত মাসে তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যখন ইরান ওমানের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন যুদ্ধংদেহী মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলের বাইরেও ইরান যে সামরিক শক্তির ব্যবহারে পিছপা হবে না—রেজাইয়ের এই বার্তার মাধ্যমে তেহরান সেটিই স্পষ্ট করল।
মন্তব্য করুন