প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১১:৩৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা স্থায়ী নয়। ইরানের পরমাণু হুমকি শেষ হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তা এবং শান্তির স্বার্থে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়া বড় বিষয় নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটিকে ছোট একটি মূল্য হিসেবেই দেখা উচিত। তার ভাষায়, ইরানের পরমাণু হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। যারা ভিন্নভাবে চিন্তা করে, তারা বাস্তবতা বোঝে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের আশঙ্কা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮ দশমিক ৩৫ ডলার বা প্রায় ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১১ দশমিক ০৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫ দশমিক ২৭ ডলার বা প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়ায়। সেশনের শুরুতে দাম আরও বেড়ে ১১১ ডলারের বেশি হয়েছিল।
গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে বাজারের তথ্য থেকে জানা গেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে বাড়তি জ্বালানি খরচ বহন করতে হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে তেলের চালান বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ কমে গেলে সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা গুদামে তেল জমে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কমাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালে যে তেলের কূপ বন্ধ করতে হয়, তখন শুধু উৎপাদনই কমবে না, সংঘাত শেষ হওয়ার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এর ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন