প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:৩৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও ডলার সংকটের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, দেশের মোট রিজার্ভ ৩৫১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৩৫.১২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতির এই ইতিবাচক চিত্র বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
শুধু মোট রিজার্ভই নয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণও এখন বেশ সন্তোষজনক। সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৪৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ৩০.৪৬ বিলিয়ন ডলারে। ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, কারণ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধ করার পরও রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। সাধারণত আকুর দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভে বড় পতন দেখা দিলেও এবার দ্রুততম সময়ে তা কাটিয়ে উঠে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে দেশের প্রায় সাত মাসের সম্পূর্ণ আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কাছে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ ধরা হয়, সেই হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা মোকাবিলায় এই মজুত রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচের চাপের মধ্যেও ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপর নিট রিজার্ভ থাকা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতারই পরিচয় দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূলত প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) বলিষ্ঠ প্রবাহ এবং রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতার কারণেই রিজার্ভের এই শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও বৃদ্ধি পাবে। এই শক্তিশালী রিজার্ভ কেবল আমদানি দায় মেটাতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ঋণমান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন