প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়, তবেই তেহরান পরবর্তী দফার আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘শার্গ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।
ইরাভানি উল্লেখ করেন, যেকোনো নতুন সংলাপে বসার জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের বর্তমান বৈরী আচরণ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং অবরোধ প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “ইরান কখনোই কোনো সামরিক আগ্রাসনের সূচনাকারী হতে চায় না এবং আমরা সবসময় রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে কেউ যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান তার মোক্ষম জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে ইরান যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, তেহরান স্থায়ীভাবে সংঘাত অবসানের প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে, তবে বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ চলবে। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাঈদ ইরাভানি এই শর্ত দিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবরোধ বহাল রেখে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর মার্কিন কৌশলকে ইরান ‘একতরফা’ হিসেবে দেখছে, যার ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
মন্তব্য করুন