তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৪৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জকসু ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় মারলেন ছাত্রদল নেত্রী

সংগৃহীত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় মারার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমের সঙ্গে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীর বিরোধ নিয়ে নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনডোর গেমসের ক্যারম প্রতিযোগিতার ফাইনালে দুটি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি দলে ছিলেন সাদিয়া সুলতানা নেলী। প্রতিপক্ষ দলে ভিন্ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী থাকায় নিয়মভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম খেলা স্থগিত রাখা বা দুই দলকেই যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং একে অপরকে হুমকির অভিযোগও ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় নেলী জর্জিসকে আলাদা করে ডেকে নেন। সেখানে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে হুমকি দেওয়ার পর জর্জিস ‘ধন্যবাদ আপনাকে’ বললে নেলী প্রকাশ্যে তাকে থাপ্পড় মারেন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জর্জিস বলেন, আমি অনিয়ম দেখে খেলা স্থগিত বা দুই টিমকে বিজয়ী করতে বলি। তখন নেলী আপু আমার দিকে তেড়ে আসেন, দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
তিনি রইস উদ্দিন স্যারকে ফোন দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর নেলী আপুদের টিমকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমাকে পাশে ডেকে বলে, আপনি কাজটি ভালো করেননি। আমি তাকে ধন্যবাদ দিই। পরক্ষণেই তিনি সবার সামনে আমাকে থাপ্পড় মারেন। আমি পুরো হতবাক। ভিসি স্যারের কাছে অভিযোগ দিলে তিনি প্রক্টর হয়ে আসতে বলেন।

অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলীও এ ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জর্জিস আনোয়ার নাইম, এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন তো শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই আপনার ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা লিখছে, আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলেছি। যেখানে অন্যায় আপনার—অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে দুটি টিমকে একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন, সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, থাপ্পড় দেওয়া আমি স্বচক্ষে দেখিনি। আমি শুনেছি এমন একটা মারার ঘটনা ঘটেছে। যিনি মার খেয়েছেন, তিনিসহ জকসুর নেতারা ভিসির কাছে গিয়েছিলেন। ভিসি স্যার আলী নূর স্যারকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছেন।

মন্তব্য করুন