প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:২৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড ‘ব্ল্যাকপিংক’-এর তারকা জিসুর পরিবারের এক সদস্যকে কেন্দ্র করে ছড়ানো গুরুতর অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে কে-পপ দুনিয়ায়। জিসুর কথিত বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা ও পুলিশি নজরদারির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও জিসু এবং তাঁর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ব্লিসু’ (BLISSOO) শুরু থেকেই এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক দিন আগে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে, যেখানে জানানো হয় যে সিউলে এক নারী স্ট্রিমারকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তিরিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গত ১৫ এপ্রিল আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির পদবি ‘কিম’ হওয়ায় এবং জিসুর পারিবারিক নামের সঙ্গে মিল থাকায় দ্রুতই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি জিসুর বড় ভাই। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে ‘ব্লিসু’র আইনজীবী এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমানে আলোচিত এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিল্পী বা তাঁর সংস্থার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। অনলাইনে ছড়ানো তথ্যগুলোকে যাচাইবিহীন অনুমান এবং সরাসরি মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও জানান যে জিসু দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা বসবাস করছেন। জিসুর কঠোর নিয়মতান্ত্রিক জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্যের কথা উল্লেখ করে আইনি প্রতিনিধি বলেন, পারিবারিক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায়ভার শিল্পীর ওপর চাপানো অবান্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে চেনার কথা স্বীকার করলেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনাটি ‘পারস্পরিক সম্মতিতে’ ঘটেছে বলে দাবি করেছেন। তবে ভুক্তভোগীর আইনজীবী জোরপূর্বক আটকে রেখে লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটরস অফিস পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন খারিজ করেছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ভুক্তভোগী নারী নিজেও সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে অনুরোধ করেছেন যেন জিসুকে এই ঘটনার জন্য দোষারোপ না করা হয়। তাঁর মতে, অপরাধের জন্য ব্যক্তিই দায়ী, তার পরিবারের দিকে আঙুল তোলা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক এই তারকাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক মোকাবিলায় ‘ব্লিসু’র দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণকে কে-পপ শিল্পে সংকট ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো শিল্পীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা কেবল অন্যায়ই নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মন্তব্য করুন