প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় অংশ নিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
আগামী সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ হওয়ার কথা থাকলেও পাকিস্তান, ইরান বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
উচ্চপর্যায়ের বিদেশি প্রতিনিধিদের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রেড জোন ও বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। নাগরিকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডি-তে সব ধরনের গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই এই নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশের সিটি অফিসার সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানি-এর নির্দেশনায় পুরো শহরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ৬০০টির বেশি বিশেষ পিকেট বসানো হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলিট কমান্ডো ও স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডলফিন ফোর্স ও কুইক রেসপন্স ইউনিট নিয়মিত টহল দিচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকা ও আবাসিক অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল শাহবাজ শরীফ-এর মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। এরপর ১০ ও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হচ্ছে, তবে তেহরানকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বনেতারা আশা করছেন, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য করুন