তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৩:৩১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানে শাসন পরিবর্তনের বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের ইউ-টার্ন

যুদ্ধের ইতি টানতে ইসরায়েলকে এক সপ্তাহের ‘ডেডলাইন’ দিল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে টালমাটাল বিশ্ব তেলের বাজার সামাল দিতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যুদ্ধ।  তাই  যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলকে মাত্র এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী দেশটি। খবর মিডল ইস্ট আই ও পলিটিকোর।

এক উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানে বর্তমান সরকার পতনের যে আশা ইসরায়েল এবং পশ্চিমা কিছু মহল করছিল, তা এই মুহূর্তে অবাস্তব। ওই সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, “তেহরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য হয় স্থল সেনা অভিযান চালাতে হবে অথবা ব্যাপক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের পুনরুত্থান ঘটতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না।” এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই এখন ওয়াশিংটন যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চাইছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রশাসনের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেখানে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযানকে ‘সফল’ দাবি করে তা দীর্ঘায়িত করতে চায়, সেখানে ওয়াশিংটনের মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ইরানের সাথে এই সংঘাতের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকে কোনো সঠিক পরিকল্পনা বা মূল্যায়ন করেনি। এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি ৬০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারের আতঙ্ক কাটাতে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কমাতে ইসরায়েলকে যুদ্ধ থামানোর জন্য চাপ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনাগুলো মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন