প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ০১:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ঋতুকালীন ছুটি বা ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ চালুর দাবিতে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে, এ ধরনের ছুটি আইন করে বাধ্যতামূলক করা হলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আইন চালু হলে অনেক নিয়োগকর্তা নারী কর্মী নিয়োগ দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। তার মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংবেদনশীলতা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা এক বিষয়, তবে এটিকে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এতে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে এমন মনস্তাত্ত্বিক ধারণা জন্মাতে পারে যে তারা পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন।
বেঞ্চের অপর বিচারক জয়মাল্য বাগচী-ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান নারীদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিলেও চাকরিবাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তার মতে, কোনো মানবসম্পদ যত কম আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হবে, বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতাও তত কমে যেতে পারে।
এই আবেদনটি করেছিলেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি। তিনি আদালতের কাছে সব রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির বিধিমালা প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি এই উদ্যোগকে ‘ভীতি তৈরির প্রয়াস’ বলে মন্তব্য করেন।
শুনানির সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আর শামশাদ জানান, ২০১৩ সালে কেরালা সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটি চালু করেছিল। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এটিকে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া ভারতের কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও স্বেচ্ছাভিত্তিতে এমন সুবিধা দিয়ে থাকে।
মন্তব্য করুন