প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছে বাংলাদেশ।
লন্ডনের স্থানীয় সময় রোববার (৮ মার্চ) ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, এখনো নতুন করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে, যা উদ্বেগজনক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন। সম্মেলনে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের লক্ষ্য ও আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়ম ও রীতিনীতির লঙ্ঘনের কারণে বিশ্ব যে কঠিন সময় পার করছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথাও তুলে ধরেন এবং সম্মেলনে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠানো ও সফল সমাপ্তির প্রশংসা করায় কমনওয়েলথ সচিবালয়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সম্মেলনের ফাঁকে তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপার, কানাডার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি রবার্ট অলিফ্যান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী আলভিন বোটেস, অ্যান্টিগুয়া ও বারমুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেট গ্রিন এবং ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো অ্যাব্লাকওয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় ছাড়াও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য সমর্থন চান তিনি।
এ ছাড়া কমনওয়েলথ দিবস উপলক্ষে সেন্ট জেমস প্যালেসে আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
মন্তব্য করুন