প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১২:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। দেশটির অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা লাভের পর ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, তিনি বেশিরভাগ সময় নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকার দেননি। তার খুব অল্প সংখ্যক ছবি ও ভিডিওই বাইরে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলাতেই আলী খামেনির মৃত্যু হয় বলে প্রথমে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
মোজতবা খামেনির নাম নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণার পর ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া সোমবার কাতারের দোহায়ও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোরের দিকে তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কিছুদিন ধরে বলছেন, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মোজতবা খামেনি তার কাছে গ্রহণযোগ্য নন। ইসরায়েলও মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার আগে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মোজতবা খামেনি ৫৬ বছর বয়সী এবং দীর্ঘদিন আড়ালে থেকে প্রভাব খাটানোর জন্য পরিচিত। তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনগুলোতে হস্তক্ষেপ করা, বাসিজ মিলিশিয়াকে নির্দেশনা দেওয়া এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কথাও রয়েছে। তবে তিনি কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হননি। তার বাবা আলী খামেনি এবং পূর্বসূরি রুহুল্লা খোমেনি উভয়ই ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া পাহলভি রাজতন্ত্রের বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরের সমালোচক ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে মোজতবা খামেনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন তাকে আলী খামেনির নিযুক্ত বা তার পক্ষ থেকে কাজ করা হিসেবে বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচিত করায় অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তেহরানের শত্রুরা ভেবেছিল আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি অচলাবস্থায় পড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।’
আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইরিব মোজতবা খামেনিকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিতে তাকে ‘একজন সর্বগুণসম্পন্ন ইসলামী আইনবিশারদ, তরুণ চিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আগামী সময়ে বিশ্ববাসীর নজরকাড়া বিষয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন