বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৪

রোজার বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা ভোক্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

রোজায় ক্রেতাসাধারণকে স্বস্তি দিতে সরকারের পক্ষ থেকে এবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানি করা হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য। পাশাপাশি রোজা ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ মজুত। বিশ্ববাজারেও এবার পণ্যের দাম কম। ফলে দেশে জোগান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এতে শবেবরাতের পর বাজারে রোজার পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় অতি ব্যবহৃত পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ, খেজুর, মসুর ডাল, সয়াবিন তেলের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি দুধ কিনতেও ক্রেতাকে একই সময়ের তুলনায় ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। ফলে রমজানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তা।

 

রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে:

 

  • প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা (গত বছর ১১৫-১৩০ টাকা)।
  • ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা (গত বছর ৫৫ টাকা)।
  • বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা (গত বছর ১৭৬ টাকা)।
  • খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা (গত বছর ১৭৬ টাকা)।
  • সরু মসুর ডাল প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা (গত বছর ১৪০ টাকা)।
  • মাঝারি আকারের মসুর ডাল ১২০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা।
  • খোলা চিনি প্রতি কেজি ১০৫ টাকা (গত বছর ১২৫ টাকা)।
  • গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকা (গত বছর ৮৪০ টাকা)।

 

রাজধানীর কাওরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এবার শবেবরাতের আগে ও পরের দিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে গতবছর রোজার আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই মনে শঙ্কা হচ্ছে সামনে কী হয়।”

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইন প্রয়োগের বড় দুর্বলতা। এবার বাজারে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ আছে, তাতে রোজায় দাম বাড়ার কথা নয়। আর গত বছরের তুলনায় কেন বেশি দাম, সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই সরবরাহ পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এ বছরের রমজান স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ভোক্তারা বলছেন, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম গতবছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় রোজায় বাড়তি খরচের শঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারের দাবি, সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর