শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৫ ১৪৩২   ১৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২

তারেক রহমানের ৯ দফা: ‘৭৪-এর কালো আইন’ বাতিলের অঙ্গীকার বিএনপির

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত প্রথম নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কয়েক দশক ধরে চলা বিতর্কিত ‘১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন’ বাতিলের প্রতিশ্রুতি।

 

বিএনপির ৯ দফা ইশতেহারকে পাঁচটি প্রধান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: ১. গণতন্ত্র ও জাতিগঠন: অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির নিশ্চয়তা। ২. মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থান: ঐতিহাসিক গৌরব ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ। ৩. সাংবিধানিক সংস্কার: ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা। ৪. সুশাসন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। ৫. স্থানীয় সরকার: তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ।

 

ইশতেহারের সবচেয়ে সাহসী ঘোষণাগুলোর একটি হলো ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল। বিনা বিচারে আটকে রাখার এই ‘কালো আইন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইকতেদার আহমেদ বলেন:

"প্রতিটি সরকারই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে রাখে ক্ষমতায় গেলে বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করে দেবে। কিন্তু দেখা যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা আর বাতিল করে না। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বাতিল যদি করে এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখবো।"

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করিয়ে দেন যে, দলগুলো ক্ষমতায় থাকলে এই আইনকে সুরক্ষা হিসেবে দেখে আর বিরোধী দলে থাকলে নিপীড়নের উপায় হিসেবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই প্রকৃত গণতন্ত্রের লক্ষণ।

 

ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া, গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন প্রণয়ন। বিচারপতি নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন ও একটি শক্তিশালী জুডিশিয়াল কমিশন গঠন। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকার রয়েছে এই ইশতেহারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পুলিশ কমিশন গঠন করলেই হবে না, বরং পুলিশকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করার দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এটিই হবে গণতান্ত্রিক সংস্কারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিভাগের আরো খবর