গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নেপালে মহিলা লীগ নেত্রীসহ ১০ বাংলাদেশি আটক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আক্তার হুসনাসহ ১০ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে থামেলের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কাঠমান্ডু উপত্যকা অপরাধ তদন্ত দপ্তরের তথ্যমতে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাঠমান্ডু মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের থামেল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপরাধ তদন্ত দপ্তরের একটি বিশেষ দল। আটক বাকি ৯ বাংলাদেশি হলেন— মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রেপন মাহমুদ (৪৯), মো. কেরামত আলী খান (৩০), শহিদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২) এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)।

কাঠমান্ডু উপত্যকা অপরাধ তদন্ত দপ্তরের পুলিশ সুপার শরৎ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, আটক ব্যক্তিরা কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই নেপালে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ও অধিকতর তদন্তের জন্য আটক সবাইকে ইতোমধ্যে নেপালের অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফাহিমা হুসনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়: আটক ফাহিমা আক্তার হুসনা (৪৬) গাজীপুর মহানগর রাজনীতির পরিচিত মুখ। ২০১৬ সালে গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

পাসপোর্ট ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ফাহিমা আক্তার হুসনা ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন। তবে উক্ত ভ্রমণের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০২০ সালে গাজীপুরের উত্তর বিলাশপুর এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল ফাহিমা হুসনার বিরুদ্ধে। তবে তৎকালীন সময়ে তিনি উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন— জমিটি ১৯৯৪ সালে ব্যক্তিগতভাবে কেনা এবং মাঝখানের খাস অংশটি ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

নেপাল পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ফাহিমা হুসনার বিরুদ্ধে নেপালে অবৈধভাবে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো মামলা বা অপরাধমূলক ভূমিকার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য মেলেনি। পুরো বিষয়টি বর্তমানে নেপাল অভিবাসন দপ্তরের তদন্তাধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন