প্রকাশিত: ৫৪ মিনিট আগে, ০৫:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের পুরো ব্যাংক খাতকে জিম্মি করে ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ এবং তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চ্যানেল বা অফশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির ব্রিটেনের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ জার্সির ইউবিএস (UBS) ব্যাংকে থাকা নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ৫৩ লাখ পাউন্ড (প্রায় সাড়ে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড) জব্দের আদেশ প্রদান করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাংক খাতের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন এই ব্যবসায়ী। দীর্ঘসময় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যানের পদ আকড়ে ধরে ব্যাংক মালিকদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং সরকারের বিভিন্ন তহবিলের নামে ব্যাংক খাত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা আড়ালে তাকে 'ব্যাংক চাঁদাবাজ' বলে অবহিত করতেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পণ্য আমদানিতে দর বাড়িয়ে দেখানো, রপ্তানি অর্থ দেশে না এনে বিদেশে রেখে দেওয়া এবং ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে অর্থ পাচার করতেন তিনি। অর্থ স্থানান্তরের এই জটিল ও কূটকৌশলের কারণে তদন্তকারীরা তাকে ‘ম্যাজিক মাস্টার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। নাসা গ্রুপের বিভিন্ন টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানার নামে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংক থেকে একই কায়দায় হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া এবং এক ব্যাংকের টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের দায় মেটানোর ভয়ঙ্কর জালিয়াতি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাচারকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থের বড় একটি অংশ গেছে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি দ্বীপ ও হংকংসহ বিভিন্ন কর স্বর্গে (Tax Havens)। ২০১৯ সালের ১৭ মে আইল অব ম্যানের ঠিকানায় ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ নামের একটি অফশোর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়, যার মাধ্যমে পরে জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে ওই হিসাব খোলা হয়। গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড জমা ছিল। বিদেশের এসব সম্পদ পাচার ও হস্তান্তরের ঝুঁকি থাকায় আদালতের নির্দেশে তা ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন