তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ মিনিট আগে, ০৬:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ভুড়ভূড়ি বিলকে ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ভুরভুরি বিলকে দুভাগে বিভক্ত করেছে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়ক। এই সড়কের পাশাপাশি থাকা জোড়া সেতু ঘিরে নতুন পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে। পর্যটক আকর্ষণে স্থানীয়রা সেতু দুটি বর্ণিল রঙে সাজিয়েছেন।

 

সড়কের পাশাপাশি থাকা দুটি সেতু, সবুজ বৃক্ষরাজি ও সেতুর দুপাশের বিশাল জলরাশি মিলিয়ে এখানে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে বিকেল হলেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন।

 

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামের পাশে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়কের পথিমধ্যে জোড়া সেতুটির অবস্থান। সড়কটি সোজা করার লক্ষ্যে পুরোনো সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাটি ‘জোড়া ব্রিজ’ নামে পরিচিতি পায়।

 

সেতুর আশপাশে চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ শাখা-প্রশাখা মেলে ছায়া দিয়ে রেখেছে। পর্যটকদের সেবা দিতে সেখানে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভাসমান দোকান। এতে কিছু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

 

স্থানীয় যুবকেরা দূরদূরান্তের মানুষের যাতায়াত ও পর্যটকদের আকর্ষণ করতে জোড়া সেতুকে রংবেরঙে সাজিয়েছেন। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে চটপটি, শরবত, চা, পান-সিগারেটসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট দোকান। কেউ কেউ নৌকায় করে পর্যটকদের হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখেন।

 

স্থানীয় ছোঁয়াবালি গ্রামের শাহীনুল আলম বলেন, ভুরভুরি বিলের জোড়া ব্রিজ এলাকা সবুজ ও ছায়াঘেরা। বর্ষায় শাপলা-শালুকের মধ্যে জলের বুকে ঘরবাড়িগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দেখায়। শুষ্ক মৌসুমে চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত এবং বৈশাখে ধানের সোনালি আভায় এলাকাটি ভিন্ন রূপ ধারণ করে।

 

তিনি জানান, দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভিড় বাড়ে।

 

শরবত ও পান-সিগারেট বিক্রেতা মিজু মিয়া বলেন, বর্ষার পানি থাকা পর্যন্ত মূলত পর্যটকদের ভিড় থাকে। পর্যটকদের সুবিধার্থে সরকারিভাবে একটি গণশৌচাগার ও একটি শেড নির্মাণ করা হলে এখানে মানুষের যাতায়াত আরও বাড়ত।

 

তবে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও ওই এলাকায় কোনো গণশৌচাগার না থাকায় বিশেষ করে নারীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

 

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পরিষদ কাজ করে থাকে। রাজনগরের মৌলভীবাজার-খেয়াঘাট সড়কের জোড়া সেতুতে পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত হলে সেখানে গণশৌচাগার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন