প্রকাশিত: ২৯ মিনিট আগে, ০৯:৫৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
উজান থেকে ধেয়ে আসা ১০০ মিটার উঁচু দানবীয় পানির স্রোত ও প্লাবনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেপাল। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে বাসিন্দারা যখন দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই আকস্মিক এই প্রলয়ঙ্করি বন্যায় চোখের পলকে বিলীন হয়ে যায় তিমুরে বাজার এলাকা। পাহাড়ি ঢল ও পানির প্রবল স্রোতে কাস্টমস পয়েন্টে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন তলিয়ে গেছে।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এটি মূলত হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ ভূমিধসের ফল। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নেপাল-চীন রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে লহেন্দে নদীতে বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল ধস নেমে কাদা-পানির মিশ্রণে এই ক্ষিপ্র বন্যার সৃষ্টি হয়। ভূমিধসের পর যে শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি হয়, তা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য হিসেবে অনুভূত ও রেকর্ড হয়েছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক বিপর্যয়ের পর থেকে ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ১৪২ জন ভারতীয় ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকরা রয়েছেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা পানির স্রোত ভোটে কোশি নদীতে উপচে পড়ে। এতে নেপালের রাসুওয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকাতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য মতে, সেখানে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে নিখোঁজদের নামের তালিকা নথিভুক্ত করছেন। নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকার স্বজনেরা সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে স্বজনদের খোঁজে অধীর অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের সাহায্যে সেখান থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সরকারের সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা বর্তমানে কাদা ও ভারী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধার করতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
মন্তব্য করুন