প্রকাশিত: ৩২ মিনিট আগে, ০৯:৫২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ৩টায় বসছে। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার পাশাপাশি এবারের অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, "বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।" তিনি জানান, তৃতীয় অধিবেশনটি ৫, ৭ অথবা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হবে।
চলতি অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ছয়টি বিল উত্থাপিত হতে পারে।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে চিফ হুইপ বলেন, "বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখতে পারবেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি বলেন, "জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনি ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং সরকারের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।"
সংবিধান সংস্কারের পরিধি ব্যাখ্যা করে তিনি মন্তব্য করেন, "সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।"
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাবের কথা জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, "সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন এবং জামায়াত থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"
এদিকে সংসদ অধিবেশন ঘিরে শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্যতম অবনতি ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নতুন এই অধিবেশনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম গতিশীল হওয়া এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, "তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।"
মন্তব্য করুন