প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইল তুরস্ককে সিরিয়ায় ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে আঙ্কারা ইসরাইলকে সিরিয়ায় ‘বেপরোয়া’ হামলা বন্ধ করতে বলেছে।
মঙ্গলবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির রানওয়ে ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের দাবি, ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছিল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, তুর্কি সেনা মোতায়েন হলে তা বিদ্যমান নিরাপত্তা সমঝোতার ‘স্থিতাবস্থা’ লঙ্ঘন করত।
তবে তুরস্ক ও সিরিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেন, সেখানে তুরস্কের কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল না। তার মতে, তুর্কি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করতে সেখানে গিয়েছিলেন।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, হামলার সময় বা আগে ওই ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল না। একই সঙ্গে ইসরাইলকে সিরিয়ায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সতর্ক করে বলেছেন, সিরিয়ায় তুরস্ককে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতায়’ জড়ানো উচিত নয় এবং ইসরাইলের আত্মরক্ষার দৃঢ়তা পরীক্ষা করা ঠিক হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব বাড়ায় ইসরাইলের উদ্বেগও বাড়ছে। বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সিরীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে আঙ্কারা এবং দেশটির সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রও সক্রিয় হয়েছে। ওয়াশিংটন ইসরাইল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি ‘ডি-এস্কেলেশন’ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যাতে সামরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো যায়।
মন্তব্য করুন