মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ২০ ১৪২৯   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৮০

দেবিদ্বারে এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান মুখোমুখি ! এলাকায় বিক্ষোভ

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ  

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২২  

কমিটি ঘোষণা না দিয়ে চলে যেতে চাইলে স্থানীয় এমপিসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দকে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় আ’লীগের নেতা-কর্মীরা ও সম্মেলনের কাউন্সিলরগন। এসময় আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ‘দেবীদ্বার চান্দিনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মিছিলে মিছিলে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে।

সড়কের দু’পাশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকে যায় কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ষ্ট্যাটাস ও লাইভ প্রচার হতে থাকলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত হলেনপরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১০টায় কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশের নিরাপত্তা প্রহরায় স্থানীয় এমপি ও জেলা এবং উপজেলার নেতৃবৃন্দ এলাকা ত্যাগ করেন।

 

ঘটনাটি ঘটে শনিবার উপজেলার নবিয়াবাদ কুমিল্লা মডেল কলেজ মাঠে আয়োজিত দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়ন আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে কমিটি ঘোষণা নিয়ে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বিক্ষুভকারীরা এমপিসহ অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
ওই সংবাদে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি ও মাহববুল আলম হানিফ এমপি-এর হস্তক্ষেপে আওয়ামী লীগ কুমিল্লা (উঃ) জেলা সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব রোশন আলী মাষ্টার সভাপতি পদে মোঃ শাহ আলমকে ও মোঃ রুকুনুজ্জামানকে সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

 

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক একেএম মনিরুজ্জামান মাষ্টার জানান, আমি এ ব্যাপারে কোনো কমেন্টস করতে পারব না। আমাকে প্রশ্ন করলেও লাভ নেই, কোনো প্রশ্নরে জবাব দিতে পারবনা। 
কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এর সাথে মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ কুমিল্লা (উঃ) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সম্মেলনে প্রার্থীদের মধ্যে সমোঝোতা না হওয়ায় কাউন্সিলররা ভোট চেয়েছিল। তখন এমপি সাহেব জেলা আওয়ামী লীগগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলেন ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি ঘোষণা করবেন। অতঃপর নেতৃবৃন্দরা রুদ্ধদ্বারকক্ষে সভাপতি পদে শাহ আলম এবং সাধারন সম্পাদক পদে রোকনুজ্জামানকে মনোনিত করেন। তারপর কমিটি ঘোষণা না দিয়ে এমপি চলে যেতে চাইলে নেতা-কর্মীরা পথ অবরোধ করে দেয়। সবশেষে জেলা আ’লীগ সাধারন সম্পাদক কমিটি ঘোষণা করেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি শেখ আব্দুল আউয়াল বলেন, সভাপতি পদে ৫জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন প্রতিদ্ব›দ্বী হওয়ায় ওদের আলাদাভাবে একক প্রার্থী করতে বৈঠকে বসাই, সমোঝোতায় না আসায় আমরা এমপি সাহেব, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগের ৩ জন সহ-সভাপতি উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারন সম্পাদককে উপজেলা সাধারন সম্পাদকসহ ৭ জন একসাথে নিয়ে বসি। আমরা কাউন্সলরদের পছন্দ অনুযায়ী সভাপতি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করে ঘোষণা দেয়ার চেষ্টা করি। এ সময় এমপি সাহেব কমিটি ঘোষণা দেয়ার পক্ষে না থাকায় এবং ঢাকায় যেয়ে দু’দিন পর কমিটি ঘোষণার কথা বলায় এ উদ্ভট পরিস্থিতি দাড়ায়।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার বলেন- সর্বশেষ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তটি এমপি সাহেবের মাধ্যমে ঘোষণা দিতে বললে এমপি সাহেব এখানে ঘোষণা না দিয়ে দু’দিন পর ঘোষণা দিতে বলেন, এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি ঘোষণার দাবীতে এমপি সাহেবের গাড়ি অবরোধ করে রাখলে আমি মিমাংসার চেষ্টা করি। এমপি সাহেব গাড়িতে নেতাকর্মীরা লাথি মারার ঘটনায় এখানে ঘোষনা দিতে রাজী হননি। 

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম ও যুগ্মসম্পাদক মাহবুব উল হানিফ এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা নির্দেশ দিলে আমি কমিটি ঘোষনা দেই।  যদিও কমিটি ঘোষণা দেয়ার কথা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের। ওরা পালিয়ে যাওয়ায় আমাকে কমিটি ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। পরে পুলিশ প্রহরায় এমপি সাহেবকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেই। এমপি সাহেব ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ইগুর কারনেই এ উদ্ভট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা দলের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ।

এছাড়া আজ গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অদ্ভুত পরিস্থিতির কারনে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর