বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯   ১২ মুহররম ১৪৪৪

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬৮

ভোক্তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো: ড. এজাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২২  

বর্তমানে দেশে দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা, তাতে ভোক্তাদের কোনো রকম চাপ নেওয়ার পরিস্থিতি নেই। ভোক্তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এমন সময় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। অথচ এটা ঠিক এমন একটা সময়, যখন সরকার জনগণের কষ্টটা বুঝে নিজেই ভর্তুকি দেবে। জনগণকে সাপোর্ট দিয়ে যাবে। আবার যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তখন তো ভোক্তারাই চাপটা নিতে পারবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এজাজ হোসেন এসব কথা বলেছেন।

রোববার (৫ জুন) প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে গ্যাসের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়। এ ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাগো নিউজকে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, গ্যাসের দামের সঙ্গে দুইটা দিক আছে। একটা সরকারের দিক, আরেকটা ভোক্তাদের দিক। ভোক্তাদের দিক যদি চিন্তা করি, তবে আমি দেখছি এটা খুবই খারপ সময়। জনগণ অনেক চাপে আছে। এখন অবশ্যই দাম বাড়ানোর সময় না। জানি না জনগণ কীভাবে নিজেদের সামাল দেবে। দাম বাড়ানোর যদি প্রয়োজন হয়ও, তাহলে ভোক্তাদের সঙ্গে বসে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নিজেরা নিজেরা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে জনগণকে তার মূল্য দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দিকটা হলো, আমরা এমন একটা চাপে পড়ে গেছি যে, আমাদের এলএনজি আমদানি করতেই হচ্ছে। আমাদের জ্বালানির যে আবস্থা, আমরা সম্পূর্ণ রূপে গ্যাসের ওপর নির্ভর করি। গ্যাসের ওপর যদি নির্ভর করতে হয়, গ্যাস শেষ হয়ে গেলে তো আমদানি করা ছাড়া কোনো উপায় নাই।

তিনি বলেন, ৭৫ সালে ১০ কেজিও ভোজ্যতেল আমদানি হতো না। সরিষা তেল দিয়েই আমরা খাওয়া দাওয়া করতাম। এখন দেশের খাওয়া দাওয়া ৯০ ভাগই আমদানি করা তেল দিয়ে হয়। যার কারণে আমাদের সরিষা তেল উৎপাদন থেকে কৃষকরা সরে গেছে।

গ্যাস মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে কি না এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আমি নিজেও বিশ্বাস করি আমাদের অনেক গ্যাস আছে। কিন্তু যাই হোক, যা করণীয় সরকার তো তা করেনি। আমাদের গ্যাস সংকট আছে। অতএব আমাদেরকে এলএনজি আনতেই হবে। এরই মধ্যে এলএনজির দাম তো আকাশ ছোঁয়া। যদি এই মুহূর্তে সঠিক কোনো পরিকল্পনা না থাকে, আমরা যদি তার বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারি, কিংবা আমাদের যদি দুর্দিনের জন্য কোনো গচ্ছিত টাকা না থাকে, তাহলে এ ধরনের অবস্থা হবেই।

বিদ্যুতের দামও বাড়বে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার তো সাহস করে অতিরিক্ত বাড়ায়নি। যতটুকু বাড়িয়েছে, এখন দেখা যাক জনগণের ওপর কতটুকু চাপ সৃষ্টি করে। আমার শঙ্কা হচ্ছে বিদ্যুতের দাম আরও বেশি বাড়াবে।

এই বিভাগের আরো খবর