শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৭ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
২৪ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ দু’চার দিনের মধ্যে ওষুধ আসছে : কাদের ‘ডেঙ্গু নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ’ ক্ষমা চাইলেন মেয়র আতিকুল রাজধানীর ২৪ হাটে পশু বেচাকেনা শুরু ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৫৩ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্ধ ঢাবির ৬৯ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার দেশের চতূর্থ মানব রোবট তৈরি করলো কুবি শিক্ষার্থীরা
৬৯০

জমি নিয়ে বিরোধের জের

হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯  

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ছোট গোপালপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্বপরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্থায়ী ভাবে বসবাসরত রোকন মোড়ল (৫৫) এর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল সারে পাঁচটার দিকে রোকন মোড়লের বসবাসরত নিজ বাড়িতে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে রোকন মোড়ল তার পরিবারসহ বসবাস করে ছোট গোপালপুর গ্রামে এবং তার আপন বড় ভাই তাজেল মোড়ল (৫৮) বসবাসকরে জয়নগর গ্রামে।

তাজেল মোড়ল এর বাড়ি থেকে তার আপন ছোট ভাই আহত রোকন মোড়লের বাড়ি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরুত্ব। তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘ বছর যাবত জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

এলাকা সূত্রে জানা যায় রোকন মোড়লের পরিবারটি অত্যান্ত সহজ সরল ও ভদ্র এবং তারা কখনো কারো সাথে ঝগরা ফ্যসাদে জড়াত না। বর্তমানে রোকন মোড়লের দুই ছেলে কর্মের জন্য প্রবাসে থাকে এবং স্ত্রী ও তার ছোট ছেলে ফেরদাউস মোড়ল (১৯) কে নিয়ে অতি সাধারণ ভাবে নিজ বাড়িতে বসবাস করে।

স্থানীয় সুত্রে আরো জানা যায় তাজেল মোড়ল এবং তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ও তার তিন ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘ বছর যাবত সহজ সরল রোকন মোড়লের পরিবারটিকে শাররীক- মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যাচার করে আসতেছে।

গত ১৯ জুলাই সকালে রোকন মোড়লের বিবাহিত দুই মেয়ে রুনা আক্তার (২৮), মিনারা আক্তার (২২) বাপের বাড়িতে জামাই নিয়ে বেড়াতে আসে।

রোকন মোড়লের বিবাহিত দুই মেয়ের বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা শুনে তাজেল মোড়ল ও তার তিন ছেলে কামাল মোড়ল (৩০), জামাল মোড়ল (২৮), জাকির মোড়ল (২৫) কে নিয়ে অসৎ পরিকল্পনা করে রোকন মোড়ল ও তার ছোট ছেলে ফেরদাউস মোড়ল কে হত্যা ও লুটকরার উদ্দেশ্যে নির্ঝন ও নিরিবিলি পরিবেশে গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল সারে পাঁচটার দিকে রোকন মোড়লের বসবাসরত বাড়িতে প্রবেশ করে দেশীয় ছেনদা রামদা টেটা লাঠি সোঠা দিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

তাজেল মোড়লের হুকুমে তার বড় ছেল কামাল মোড়ল ছেনদা দিয়ে রোকন মোড়ল কে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করলে রোকন মোড়ল রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পরে এবং চিৎকারের শব্দ শুনে আহত রোকন মোড়লের ছোট ছেলে ফেরদাউস মোড়ল বাবাকে বাঁচাতে আসলে তাকে ও টেটা লাঠি সোঠা দিয়ে কুপিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং আহত অবস্থায় ফেরদাউস মোড়ল চিৎকার করলে তার মা পরাভিন বেগম বড় বোন রুনা আক্তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং ছোট বোন মিনারা আক্তার ভাই ও বাবাকে, স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে আসলে এই নরপশুরা কামাল মোড়ল -জামাল মোড়ল - জাকির মোড়ল - বাবা তাজেল মোড়ল সকলে মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র লাঠি সোটা দিয়ে কুপিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এমনকি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুনাকে ও ছারেনি।

এ নরপশুরা রুনার পেটের বাচ্চাকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তাকে তলপেটে লাথি মারে এবং তার ডান হাতের কবজিতে লাঠি দিয়ে বারি মেরে হাতের আংগুল ফেংগে ফেলে। রোকন মোড়লের স্ত্রী পরভিন বেগম (৪৫) কে লাঠি সোটা দিয়ে পিটিয়ে ডান হাত ভেংগে ফেলে এবং মিনারা আক্তার কে পিটিয়ে আহত করে।

তারা আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ও এ সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র লাঠি সোটা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।তাজেল মোড়ল ও তার ছেলেরা লোকজনের উপস্তিতির টের পেয়ে রোকন মোড়লের স্ত্রীর ও তার মেয়েদের পরিধেয় গহনা অলংকার ও টাকাসহ লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়।

জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন এর বাতিজা সাক্ষাৎকারে বলে আমি যদি তাদের চিৎকারের শব্দ শুনে না আসতাম তা নাহলে তাদের কে মেরেই ফেলতো।

স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বা¯হ্য কেন্দ্রে প্রেরন করে এবং চিকিৎসাদিন অবস্থায় জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

গত ২১ জুলাই সরোজমিন ঘুরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মারামারি ঘটনার দুই দিন পরে রোকন মোড়লকে ফাসানোর জন্য তাজেল মোড়লের স্ত্রী শাহানাজ বেগম তাদের বসবাসরত বাড়িতে থাকা পরিত্যাক্ত পাকঘরে নিজেই আগুন লাগায়।

আগুন দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাৎক্ষণিক ভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাক্ষাৎকারে বলেন তাজেল মোড়ল ও রোকন মোড়ল এদের দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ মিটানোর জন্য দশ থেকে বারোটা শালিসি করেছি কিন্তু একটি দরবার ও তাজেল মোড়ল মানেনি এমনকি তাজেল মোড়ল ও তার তিন ছেলে চেয়ারম্যান মেম্বার অত্রএলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে মানে না।

তাজেল মোড়লের তিন ছেলে বিভিন্ন অসামাজিক অপকর্মের সাথে জড়িত আছে তাদের অত্যাচারে এলাকা বাসি অতিষ্ঠ। স।স্থানীয় এলাকা বাসি তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত ফেরদাউস মোড়ল বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন এবং একজন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেস্টা চলছে।

এই বিভাগের আরো খবর