বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১২

খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিএনপি নেতার মৃত্যু

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটের শুরুতে (সকাল ৮টা ১০ মিনিট) বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়েছে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর মহিবুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।

 

বিএনপির অভিযোগ খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, “সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খান এবং মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

 

খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, “আলিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমানের গ্রেফতারের দাবি জানাই।” জামায়াতের বক্তব্য জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাধা দিই। তখন তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরা আছে, চেক করলে সব ধরা পড়বে।”

 

খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, “আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি প্রবেশ করছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন নারীকে বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দেইনি।” পুলিশের বক্তব্য খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ রায় বলেন, “মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।”

 

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, “দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং দুপক্ষকে সরিয়ে দিই। তখন একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।” ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত এ ঘটনা নির্বাচনের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। খুলনা-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্থানীয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পুলিশ এখনো ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

এই বিভাগের আরো খবর