বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৮ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৪

আক্ষেপ মিটল মৃত্যুর আগে: সব মামলা থেকে ‘মুক্ত’ হয়েই বিদায় নিলেন

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২৬  

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আইনি লড়াই আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর জীবনের শেষলগ্নে এসে সব মামলা থেকে সম্পূর্ণ ‘দায়মুক্ত’ হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তাঁর নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে তিনি যে ‘মামলামুক্ত’ ছিলেন, তা এখন দাফন পরবর্তী আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

 

ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৫টি মামলা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে সবকটি মামলার নিষ্পত্তি হয়।

মামলার ধরণ ও ফলাফল

সংখ্যা

মোট মামলা

৩৫টি

আদালত থেকে খালাস

২২টি

অব্যাহতি পেয়েছেন

১৩টি

 

 

হলফনামা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৬টি মামলা হয়েছিল ২০১৫ সালে। বছরভিত্তিক মামলার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

 

  • ২০০৭: ২ টি

  • ২০১০: ১ টি

  • ২০১৩: ১ টি

  • ২০১৪: ২ টি

  • ২০১৫: ১৬ টি

  • ২০১৬: ১০ টি

  • ২০১৭: ২ টি

  • ২০২৪: ১ টি

 

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও কুমিল্লা, খুলনা, নড়াইল ও পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাকর্মীরা বাদী হয়ে এসব মামলা করেছিলেন। অভিযোগের তালিকায় ছিল দুর্নীতি, মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ এমনকি ‘মিথ্যা’ জন্মদিন পালনের মতো বিষয়ও।

 

 

সব মামলার মধ্যে কেবল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি দুই বছর এক মাস ১৬ দিন সাজা ভোগ করেন। পরবর্তীতে করোনাকালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে বাসায় থাকলেও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাননি তিনি।

 

 

এ বিষয়ে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, “শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলা দিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও তাঁকে চৌদ্দগ্রামে নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে সুচিকিৎসা পাননি।”

 

শেষ পর্যন্ত ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আদালতের রায়ে একে একে সব মামলা থেকে তিনি মুক্তি পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনিভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর