শুক্রবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩ ১৪৩২   ২৭ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৭১

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ`র ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শাহরিয়ার শ্রাবণ

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬  

উপমহাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অগ্রনায়ক, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর পুরান ঢাকার বেগম বাজার এলাকার কে এম আজম লেন কবরস্থানে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যরা। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজা, মহাসচিব কাজী আবুল খায়েরসহ নবাব পরিবারের সদস্যরা।

 

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ উপমহাদেশের মুসলিম জাগরণের এক মহানায়ক। তিনি মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েট), স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা, মিটফোর্ড হাসপাতাল (বর্তমান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

১৯১৫ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭১ সালের ৭ জুন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যদিও তিনি জীবদ্দশায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেখে যেতে পারেননি। প্রচলিত রয়েছে যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিজ জমি দান করেছিলেন—তবে ঐতিহাসিকভাবে এটি একটি শ্রুতি বা ভ্রান্ত ধারণা। বাস্তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি খাস জমিতে।

 

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন নবাব খাজা আহসানউল্লাহর পুত্র এবং নবাব খাজা আবদুল গনির নাতি। ১৯০৩ সালে বড়লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে তিনি পূর্ব বাংলার মুসলমানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। একই সময়ে ব্রিটিশ সরকার কলকাতার পরিবর্তে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে আসামের চা ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় কমানোর চিন্তা করে এবং বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়।
ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নবাব সলিমুল্লাহর দাবির সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলা বিভাজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর প্রেক্ষিতে কলকাতা-কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী ও ব্যবসায়ী মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখেও ১৯০৫ সালে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করা হয়।

 

বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাঙালি হিন্দু সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও মুসলমান সমাজ এটিকে প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতির সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এই বিভাগের আরো খবর