শনিবার   ১০ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৬ ১৪৩২   ২১ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২১

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২৬  

বিএনপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন এসেছে। এতদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারেক রহমান শুক্রবার রাতে দলটির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারেই এই দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

 

রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে বলা হয়।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত সাড়ে ৯টার পর শুরু হওয়া ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান নিজেই।

 

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ বিষয়ে গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’

 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। পরে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে চেয়ারম্যান পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয়। 

দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন গতি দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফিরে আসা দলটির জন্য পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশা সঞ্চার করেছে।

 

তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা শুরু হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি দলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচচিব, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

এই বিভাগের আরো খবর