বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
তোপের মুখে বন্ধ হলো সৌদির ‘হালাল নাইটক্লাব’ দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি হবে লাকসাম রামেকে ভুল চিকিৎসায় নার্সের মৃত্যু জামিন নাকচ, কারাগারে মোয়াজ্জেম দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল সংসদে আবারও রুমিনের উত্তাপ
১৮৭৪

সবার দোয়ায় সুস্থ আছি, ইনশাল্লাহ শীঘ্রই দেশে ফিরবো: তাজুল ইসলাম

এম এস দোহা

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০১৯  

সরকারের ১৩২ দিনের মাথায় ৩টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব পুন:বন্টনের পরিপত্র ১৯ মে জারি করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। কয়েকটি পত্রিকা দফতর পুর্নবন্টন ও রদবদলের বিষয়টিকে মন্ত্রীদের দ্বন্দ্ব সহ বিভিন্ন নেতিবাচক দিক ইঙ্গিত করে সংবাদ প্রচার করে।
উল্লেখ্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী দায়িত্বে ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) এমপি মোঃ তাজুল ইসলাম। একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী যশোর-৫ (মনিরামপুর-কেশবপুরের) এমপি স্বপন ভট্টচার্য। মন্ত্রী পরিষদের প্রজ্ঞাপনে মোঃ তাজুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী ও স্বপন ভট্টচার্যকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী  হিসাবে দায়িত্ব¡ বন্টন করা হয়। একই সাথে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বন্টন করা হয়। মোস্তফা জাব্বারকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও জুনায়েদ আহমদ পলক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপনে ডা. মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জাব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলকের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে মতোবিরোধের গুঞ্জন ছিলো। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেককে স্বপনের সাথে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান মতোবিরোধের বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় ইতিমধ্যে এসে গেছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিক্রম ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি। মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকান্ড, আচার অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীকে সাথে রাখতেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত নিতেন। গত মাসে প্রতিমন্ত্রী এলাকা সফর করে এসেছেন তাজুল ইসলাম। তাদের মধ্যে মত পার্থক্য ও দূরত্ব ছিলো না মোটেও। 
উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর ৩ (৪) ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইতিপূর্বে সকল পূর্ণমন্ত্রীরা স্থানীয় সরকার বিভাগ দেখ ভাল করতেন। ৯৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জিল্লুর রহমানের সাথে এ্যাডভোকেট রহমত আলী প্রতিমন্ত্রী ও সাবের হোসেন চৌধুরী উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুজিবুল হক চুন্নু, সর্বশেষ মশিউর রহমান রাঙ্গা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রীদের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। ইতিপূর্বে পরিপত্র ছাড়াই বিষয়টি ফয়সালা করা হতো। মন্ত্রীরা দাপ্তরিক কাজ প্রতিমন্ত্রীদের বন্টন করে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতেন। এখন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারির মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা করলো। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সকল ফাইল নিস্পত্তি করবেন। আর মোঃ তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ওয়াসা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর) এককভাবে দেখা শোনা করবেন। এ ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়াটাই স্বাভাবিক। প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নে সরকারের এই ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টির দফতর বন্টনে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এ প্রসঙ্গে মোবাইলে থাইল্যান্ডে চিকিৎসারত মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলামের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেওয়াজ অনুযায়ী বিষয়টি এমনই হওয়ার কথা। এ ধরনের অভিমত আমি নিজেও আন্তরিকভাবে চেয়েছিলাম। কারন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ইতিপূর্বে প্রতিমন্ত্রীরাই দেখতেন। এখন পরিপত্র জারির মাধ্যমে বিষয়টি অনেক ভালো হলো। জনাব তাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, একটি বিভাগের সাথে অপরটির সেতুবন্ধন রয়েছে। তাই স্থানীয় সরকারের বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আমি অবশ্যই প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করবো। পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ইতিবাচক কর্মকান্ডে অবশ্যই সহযোগিতা করবো। প্রতিমন্ত্রী সাথে বিরোধ প্রসঙ্গে পত্রিকায় প্রকাশিত খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের সম্পর্ক চমৎকার ও আন্তরিক।
স্বাস্থ্যের খবর জানতে চাইলে মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতা ও সমস্যা ছিলো। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ইতিমধ্যে হয়েছে। সকলের দোয়ায় আমি ভালো ও সুস্থ্য আছি। ইনশাআল্লাহ শিঘ্রীই দেশে ফিরে আসবো।
মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সাথে দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্যার (মোঃ তাজুল ইসলাম) খুবই জ্ঞানী, স্বজ্জল, নম্র, ভদ্র, মানবিক ও উদার মনমানসিকতার অধিকারী। উনার সাথে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমাদের মধ্যে বিরোধের কোন প্রশ্নই ওঠে না। মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি আমাকে ডাকতেন, মতামত পরামর্শ নিতেন। আমি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পেলেও গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবশ্যই উনার পরামর্শ ও সহযোগিতা অবশ্যই নিবো। এক্ষেত্রে মন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য বলেন, ক্ষমতা আরো অনেক বেড়েছে। কারন এককভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখন তিনি একাই নিতে পারবেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর