মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৩ ১৪৩২   ০৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১০

রেকর্ড উৎপাদন ও মজুত সত্ত্বেও চাল আমদানিতে শঙ্কিত কৃষক

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬  

দেশে চালের বাম্পার ফলন ও সরকারি গুদামে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মজুত থাকার পরও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সম্প্রতি ২৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে ২ লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৩৬টি ট্রাকে প্রায় ১,৪৪৭ টন চাল দেশে প্রবেশ করেছে। ভরা আমন মৌসুমে যখন মোকামগুলোতে নতুন চালের সরবরাহ বাড়ছে, তখন এই আমদানির সিদ্ধান্তকে কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪ কোটি ১৯ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪.১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে সরকারি গুদামে ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ টনই চাল। সাধারণত বছরে ৫-৬ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হলেও এবার রেকর্ড ১০ লাখ টন সংগ্রহ করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। এত বিপুল মজুত সত্ত্বেও আমদানির পেছনে সরু চালের (জিরাশাইল ও শম্পা কাটারি) দাম কেজিতে ২-৪ টাকা বৃদ্ধিকে প্রধান অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

 

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, এই মুহূর্তে আমদানির সিদ্ধান্ত মূলত একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারে সরবরাহ ভালো থাকার পরও আমদানি করলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সদ্য শুরু হওয়া বোরো মৌসুমের আবাদে পড়বে। মিল মালিকদের মতে, সরু চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মাঝারি ও মোটা চালের দাম বর্তমানে কমতির দিকে। বাজার মনিটরিং জোরদার না করে আমদানির এই পথ বেছে নেওয়ায় প্রকৃত কৃষকরাই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বেন।

এই বিভাগের আরো খবর