শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৮ ১৪৩২   ০৩ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

৬০ লক্ষ দোকান কর্মচারীরা ঈদ বোনাস ও ওভারটাইম ভাতা চান- এনএসইএফ

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল শ্রমজীবী মানুষই বছরে দুইটি ঈদে ঈদ বোনাস পেয়ে থাকেন। কিন্তু ব্যত্তয় ঘটে কেবল মাত্র দেশের ৬০ লক্ষ দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলে উল্লেখ্য করেছেন জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশন (NSEF)-এর নেতৃবৃন্দ। আজ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ শুক্রবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ কথা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যে, সারা-বাংলাদেশে দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মচারী কাজ করে। এই কর্মচারীরা একদিকে প্রতিনিয়ত দেশের মানুষকে সেবা দান করে আসছেন এবং মানুষের জীবনকে সহজ এবং আনন্দময় করে যাচ্ছেন। গতকাল থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। এই পুরো রমজান মাস এই ৬০ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী দেশের মানুষ এবং মালিকদের জন্য কাজ করবে অমানবিক ও অমানসিক ভাবে। স্বভাবিক কর্মঘন্টার বাইরে এদেরকে প্রতিদিন ১২, ১৪ বা ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সকাল থেকে শুরু করে সারারাত পর্যন্ত এদের কাজ করতে হবে। দেশের এই ৬০ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী নিজেদের বিশ্রাম, বিনোদন, আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে শ্রম দিবেন। এর বিনিময়ে একদিকে দেশের মানুষের জীবন সহজ এবং আনন্দময় হবে, অন্যদিকে মালিকদের মুফার পাহাড় গড়ে উঠবে। কিন্তু যে মানুষেরা দেশের জনগনের জন্য নিজেদের বিশ্রাম, বিনোদন, আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, মালিকদের সম্পদের পাহাড় গড়ছেন - সেই মানুষগুলোই তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা তো দূরের কথা, আইন সংগত অধিকার এবং সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তাই এ বছর যাতে এই ৬০ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঈদ বোনাস পান, সে বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সরকার, কলকারখানা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এবং দোকান মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পবিত্র রমজান মাসে প্রতিদিন ২ থেকে ১০ ঘন্টা অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) বিপরীতে ওভাটাইম ভাতা প্রদান এবং রাত ১০ টার পর কাজ করালে শ্রমিক কর্মচারীদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করার দাবী জানান ।সংবাদ সম্মেলন থেকে উল্লেখ করা হয় যে, এই সেক্টরের শ্রমিকদের এখনো পর্যন্ত নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র নাই। আইন অনুযায়ী সপ্তাহে ১.৫ দেড় দিন ছুটি থাকার বিধান থাকলেও এটা মানা হয় না। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বতেন-ভাতা দেয়ার আইন থাকলেও সেটা মানা হয় না। এখনো পর্যন্ত এ সেক্টরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য মজুরী বোর্ড নাই ৷


সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্ন লিখিত কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
ক. বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কাছে স্বারকলিপি পেশ। খ. শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধিন কলকারকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর-এর মহাপরিদশক বরাবর স্বারকলিপি পেশ। গ. বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর কাছে স্বারকলিপি পেশ। একই সাথে সারাদেশের ৬০ লক্ষ দোকান, রিটেইল, শপিংমল ও চেইনশপ কর্মচারীদের সভা সমাবেশ অব্যাহত থাকবে । ফেডারেশনের সভাপতি জনাব রফিকুল ইসলাম বাবুল-এর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব আমিরুল হক আমিন । 

উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব কামরুল হসান, জনাব হযরত আলী মোল্লা, জনাব আব্দুস সালাম, জনাব পরেশ মজুমদার, জনাব ফজল হক, জনাব বাবুল বেপারী, মোঃ সফিউল্লাহ জুয়েল, জনাব দিদার হোসেন, জনাব খলিলুর রহমান, মিস সুরাইয়া জেসমিন রুমা, মিসেস আলেয়া বেগম, মিসেস জেসমিন বেগম প্রমুখ ৷ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব আ.স.ম জাকারিয়া, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জনাব বাবুল আকতার । জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশ বিল্ডিং এন্ড কনস্ট্রাশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আব্দুল মতিন।বাংলাদেশ বিল্ডিং এন্ড কনস্ট্রাশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব আনোয়ার হোসাইন । ঢাকা শহর রুটি বিস্কুট ও কনফেকশনারী শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ লোকমানসহ অন্যান্যরা।

এই বিভাগের আরো খবর