রোববার   ১১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৭ ১৪৩২   ২২ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের সাদমান সাম্যর চমকপ্রদ জয়

আবিদ হাসান বাঁধন,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী  সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল থেকে একমাত্র কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন মো. সাদমান আমিন (সাদমান সাম্য)। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভূমিধস বিজয়ের মধ্যেও ছাত্রদলের এই নেতার জয় ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

জকসু নির্বাচন কমিশন  সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সাদমান সাম্য ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে পঞ্চম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩টি কেন্দ্রে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়া ২৪টি কেন্দ্রে সেরা সাতের মধ্যে জায়গা করে নেন তিনি।

 

সাদমান সাম্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিগত কমিটির ১ নম্বর সদস্য ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের লড়াকু ও দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে সাম্যর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

 

নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, সাদমান সাম্য একজন সদাহাস্যোজ্জ্বল ছাত্রনেতা হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদে-আপদে তিনি সব সময় পাশে থাকেন, যা এই নির্বাচনে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের মতে, সাদমান সাম্য নিজেকে ক্যাম্পাসে একজন প্রথাগত ছাত্রনেতা হিসেবে উপস্থাপন না করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের 'সহজেই পাওয়া যায় এমন একজন বড় ভাই-বন্ধু' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা থেকে শুরু করে অসুস্থতায় পাশে দাঁড়ানো—এই ছোট ছোট মানবিক কাজগুলো তাকে সাধারণ ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। তিনি দলীয় পরিচয় এর বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজের একটি "কমন গ্রাউন্ড" তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সকালে ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে সংহতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি চরমপন্থী বা আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তে সহাবস্থান এবং অধিকারের রাজনীতি নিয়ে কাজ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাধারণত উগ্র পন্থার  রাজনীতি থেকে বিমুখ, কল্যাণমুখী রাজনীতি পছন্দ করে। সাদমান সাম্যর মার্জিত আচরণ এবং যৌক্তিক কথা বলার ধরণ নিরপেক্ষ ভোটারদের সবচেয়ে বেশি ভোট টানতে সক্ষম হয়েছে। একই কারণে তিনি ছাত্রদলের অভ্যন্তরী সকল গ্রুপের নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

 

নিজের বিজয় প্রসঙ্গে সাদমান আমিন বলেন, "এই জয় আমার একার নয়, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জয়। ছাত্রদলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাসে ভয়ের সংস্কৃতির পরিবর্তে অধিকারের সংস্কৃতি চালু করা। "

 

তিনি আরও বলেন, দলীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে অতীতের মত সুসম্পর্ক বজায় রাখব এবং তাদের বিপদ-আপদে সর্বদা নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে পাশে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে যেন সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি বজায় থাকে, তার জন্য কাজ করা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা আবাসন, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন,  ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি এবং সহনীয় মূল্য নির্ধারণ সহ সর্বোপরি আমার এবং আমার প্যানেলের পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার বাস্তবায়নে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বার্থে কাজ করে যাব।

 

উল্লেখ্য, এবারের জকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল অধিকাংশ পদে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সাদমান সাম্যর এই জয়কে ছাত্রদলের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরো খবর