সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৭ ১৪৩২   ২১ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৬

ফিলিস্তিন দখলে ইসরায়েলের নতুন নীলনকশার অনুমোদন

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

বসতি এলাকায় মানচিত্র হাতে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। ছবি: সংগ্রহীত

বসতি এলাকায় মানচিত্র হাতে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। ছবি: সংগ্রহীত

 

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখল আরও বিস্তৃত করতে নতুন আইনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার পথ খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন এই আইনি কাঠামো ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে আরও সহজ করবে। তবে সিদ্ধান্তটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

 

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটির কড়া সমালোচনা করে বলেছে,

‘বিপজ্জনক’ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি দখলকে বৈধতা দেওয়ার ‘খোলামেলা চেষ্টা’

 

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে হামাস পশ্চিম তীরের জনগণকে

‘দখলদার বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার’
আহ্বান জানিয়েছে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি

‘অবৈধ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার’
এবং বসতি স্থাপন আরও পাকাপোক্ত করার প্রচেষ্টা।

 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট ও হারেৎজ জানিয়েছে, নতুন আইনের ফলে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনার ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নজরদারি ও আইন প্রয়োগে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

 

আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম বলেন,

“১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুতর সংযুক্তিকরণের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত।”

 

তিনি জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ব্যক্তিগতভাবে জমির মালিক হতে পারবেন।

 

ইব্রাহিম আরও বলেন,

“ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক আইনে দখলদার শক্তির নিজ নাগরিকদের দখলকৃত ভূখণ্ডে বসবাস নিষিদ্ধ।”

 

তবুও এই সিদ্ধান্তের ফলে রামাল্লার মতো শহরের কেন্দ্রেও বসতিস্থাপন কার্যত বাধাহীন হয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

 

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়,

“আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দিতে থাকব।”

 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন,

“বসতি স্থাপনকে আমরা সরকারের অবিচ্ছেদ্য নীতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছি।”

 

ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ বলেন, পশ্চিম তীরে সংযুক্তিকরণ জোরদারের এসব উদ্যোগ

“সব ধরনের স্বাক্ষরিত ও বাধ্যতামূলক চুক্তির লঙ্ঘন”
এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। তিনি সতর্ক করেন, এসব একতরফা পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবে এবং পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থির করে তুলবে।

এই বিভাগের আরো খবর