সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৭ ১৪৩২   ২১ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১২

লেবাননে ভবন ধসে নিহত ৯

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সিভিল ডিফেন্সের দলগুলোর সঙ্গে লেবানিজ রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন জরুরি ও ত্রাণ সংস্থার কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

সিভিল ডিফেন্সের দলগুলোর সঙ্গে লেবানিজ রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন জরুরি ও ত্রাণ সংস্থার কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের উত্তরাঞ্চলের বন্দরনগরী ত্রিপোলিতে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধসে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। খবর আল জাজিরার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে লেবাননের গণমাধ্যমকে সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ইমাদ খ্রেইশ জানান, দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জীবিত উদ্ধার করা ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভবনটি দুটি ব্লকে বিভক্ত ছিল, প্রতিটি ব্লকে ছয়টি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ভবন ধসের সময় ভেতরে অন্তত ২২ জন মানুষ ছিলেন।

 

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সিভিল ডিফেন্সের দলগুলোর সঙ্গে লেবানিজ রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন জরুরি ও ত্রাণ সংস্থার কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এলাকার বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসেছেন। তারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে ভবনে ফাঁক তৈরি করতে সহায়তা করছেন। ত্রিপোলির মেয়র আবদেল হামিদ কারিমেহ সাংবাদিকদের বলেন, অনিরাপদ ভবনের কারণে ত্রিপোলিকে ‘দুর্যোগ কবলিত শহর’ ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বহু বছরের অবহেলার কারণে ত্রিপোলির হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতি ত্রিপোলি পৌরসভার সামর্থ্যের বাইরে।’

 

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, ধসে পড়া ভবনের আশপাশের আবাসিক ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ইন্টারনাল সিকিউরিটি ফোর্সেস এবং ত্রিপোলি পৌর পুলিশের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এনএনএর খবরে বলা হয়, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য সব জরুরি সেবাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আশপাশের ভবনের বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থাও নিতে বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক বিবৃতিতে জানান, যেসব ভবন খালি করতে হবে, সেখানকার সব বাসিন্দাকে বাসাভাড়া সহায়তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

 

তিনি বলেন, ‘বহু বছরের জমে থাকা অবহেলার ফল হিসেবে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। নিহতদের জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে যেন সস্তা ও স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা হয় সেজন্য আমি ত্রিপোলি ও অন্যান্য এলাকার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাই।’ ন্যায়বিচারমন্ত্রী আদেল নাসসার উত্তরাঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটরকে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনএনএ। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনা লেবাননে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত অবহেলা ও অনিরাপদ ভবন নির্মাণের বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে। ত্রিপোলির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই বিভাগের আরো খবর