বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৫ ১৪৩২   ১০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho

এআই আয়নায় নিজেকে দেখতে পাবেন দৃষ্টিহীনরা

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬  

ছবি: ai

ছবি: ai

দৃষ্টিহীন মানুষদের জন্য এখন নিজের চেহারা ও শরীর সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অ্যাপ এই কাজ করছে। ছবি শনাক্তকরণ ও ভাষাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব অ্যাপ দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের কাছে একধরনের ‘টেক্সট আয়না’ হিসেবে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে ক্ষমতায়নের অনুভূতি তৈরি করছে, তবে মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

 

জন্ম থেকেই সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন এক ব্যক্তি জানান, গত এক বছর ধরে তিনি সকালে উঠেই নিজের একটি ছবি তুলে ‘বি মাই আইজ’ নামের একটি এআই অ্যাপে পাঠান। অ্যাপটি তাকে জানিয়ে দেয় তার ত্বকের অবস্থা কেমন, কাঙ্ক্ষিত মানের সঙ্গে কতটা মিলছে বা চেহারায় এমন কিছু আছে কি না যা পরিবর্তন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, অ্যাপটি এখন তার কাছে আয়নার বিকল্প।

 

দৃষ্টিহীন কনটেন্ট নির্মাতা লুসি এডওয়ার্ডস বলেন, সারা জীবন আমরা মেনে নিয়েছি যে নিজেকে দেখা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। সৌন্দর্যকে আমরা ভেতরের বিষয় বলে ধরে নিয়েছি। হঠাৎ নিজের চেহারা সম্পর্কে এত বিশদ তথ্য হাতে চলে আসা জীবনযাত্রাই বদলে দিচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক এসব অ্যাপ শুধু ছবি বর্ণনায় সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারকারীর অনুরোধে এগুলো সৌন্দর্য মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে রেটিং দেয় এবং কী পরিবর্তন করলে ভালো দেখাবে সে পরামর্শও দেয়। ফলে দৃষ্টিহীন মানুষের শরীর ভাবনা ও আত্মদর্শনের ধারণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে।

 

তবে এটি সবসময় সুখকর নয়। লুসি জানান, এক সকালে এআই তাকে বলে, তার ত্বক আর্দ্র কিন্তু বিজ্ঞাপনের মতো নিখুঁত নয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার নিজের চেহারা নিয়ে অতৃপ্তি কাজ করে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হেলেনা লুইস স্মিথ সতর্ক করে বলেন, এআই দৃষ্টিহীনদের জন্য এমন এক জগৎ খুলে দিচ্ছে যেখানে তারা নিজেদের শরীরের খুঁত নিয়ে বেশি সচেতন হয়ে পড়ছেন। এর ফলে হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে।

 

এআই প্রযুক্তির এই উন্নতি খুব দ্রুত হয়েছে। ২০১৭ সালে এআই কেবল দুই-তিন শব্দে বর্ণনা দিতে পারত। এখন স্মার্ট চশমা বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য দেয়। এনভিশনের প্রধান নির্বাহী কার্তিক মহাদেবন বলেন, এখন মানুষ মেকআপ করা বা পোশাক মিলিয়ে নেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করছে। বেশিরভাগের প্রথম প্রশ্নই থাকে—আমি দেখতে কেমন?

 

বর্তমানে অন্তত চারটি অ্যাপ দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য এ ধরনের সেবা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই যে সৌন্দর্য মানদণ্ড ব্যবহার করে তা প্রায়ই পাশ্চাত্য ও আদর্শায়িত শরীরের ধারণার ওপর ভিত্তি করে। ফলে এটি কখনো এমন পরামর্শ দেয় যা বাস্তব চেহারা থেকে অনেকটাই আলাদা করে ফেলতে পারে। প্রযুক্তিটি এখনো পুরোপুরি নির্ভুল নয়। তবে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বলছে, এটি একদিকে ক্ষমতায়নের অনুভূতি দিচ্ছে, অন্যদিকে মানসিক চাপ ও বিভ্রান্তিও তৈরি করছে।

এই বিভাগের আরো খবর