মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৪ ১৪৩২   ০৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩১

মাদুরো অপহরণে বিশেষ গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র!

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬  

 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণের সময় গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।

 

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে এক ধরনের পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এবং আগে কখনও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ না হওয়া উন্নত সামরিক প্রযুক্তি সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সংবাদপত্র এল ইউনিভার্সাল এ বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করে।

 

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযানের সময় একটি বিশেষ অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি অস্ত্রটিকে ‘ডিসকমবোবুলেটর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

মাদুরোকে অপহরণের লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা অবকাঠামো অকার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বিভিন্ন অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এমন নজির রয়েছে।

 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জানান, কারাকাসে চালানো ওই অভিযানের সময় অন্তত ৪৭ জন ভেনেজুয়েলার সেনা নিহত হন। পাশাপাশি মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৩২ জন কিউবান সেনাও নিহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

 

এল ইউনিভার্সালের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তারা এমন অস্ত্র ব্যবহার করেছে যা যুদ্ধক্ষেত্রে কখনও ব্যবহৃত হয়নি, এমন অস্ত্র যা বিশ্বের কারও কাছে নেই। তারা সেই প্রযুক্তিটি ৩ জানুয়ারী, ২০২৬ তারিখে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল।’

 

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, অভিযানে একটি ‘সোনিক অস্ত্র’ ব্যবহৃত হয়েছে। পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেনেজুয়েলার এক নিরাপত্তাকর্মীর পোস্ট শেয়ার করেন বলে আল জাজিরা উল্লেখ করেছে। ওই পোস্টে লেখা ছিল, মার্কিন বাহিনী অপারেশনের সময় ‘এমন কিছু চালু করেছিল যা খুব তীব্র শব্দ তরঙ্গের মতো ছিল।’

 

পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ‘হঠাৎ, আমার মনে হল আমার মাথা ভিতর থেকে বিস্ফোরিত হচ্ছে। আমাদের সবার নাক থেকে রক্ত পড়তে শুরু করে। কেউ কেউ রক্ত বমি করছিল। আমরা নড়াচড়া করতে না পেরে মাটিতে পড়ে যাই।’

 

এর আগে নিউজ নেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সোনিক অস্ত্র’ মূলত মাদুরোর কিউবান দেহরক্ষীদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘অন্য কারো কাছে এটি নেই। এবং আমাদের কাছে এমন অস্ত্র আছে যা কেউ জানে না… এটি ছিল একটি অবিশ্বাস্য আক্রমণ।’

 

রোববার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আরেক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, অভিযানে এমন একটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যা মূলত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা অকার্যকর করার জন্য তৈরি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত সোনিক সিস্টেমগুলোর মধ্যে দীর্ঘ-পরিসরের অ্যাকোস্টিক ডিভাইস উল্লেখযোগ্য, যা সাধারণত সতর্কবার্তা বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

 

উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক রাষ্ট্র পরিচালনার’ অভিযোগ তুলে ওই অভিযান চালানো হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরো খবর