রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৬ ১৪৩২   ২০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৬

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সিইসির সঙ্গে দেখা করতে যান নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত

সিইসির সঙ্গে দেখা করতে যান নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত

 

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা।

 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এই আবেদনপত্র জমা দেন। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই দাবি জানানো হয়। যদিও পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি ‘হ্যাকড’ হওয়ার দাবি করা হয়।

 

আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। তিনি বলেন:

“একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।”

 

লিখিত আবেদনে বলা হয়, জামায়াত আমিরের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর এবং গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব বক্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল বলে উল্লেখ করা হয়।

 

আবেদনকারীদের মতে, পরবর্তীতে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ না পাওয়ায় হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।

 

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করে। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

এই বিভাগের আরো খবর